
শেষ আপডেট: 3 December 2023 21:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোগী, তবে আদিত্যনাথ নন। তবে ইনিও গেরুয়া শিবিরেরই। মুখেও যোগীজির মতোই চোখা চোখা শব্দ। এমনিতে তিনি লোকসভার সাংসদ। তবে বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর উপর ভরসা করেছিল গেরুয়া শিবির। তাঁরা যে ভুল করেননি, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন রাজস্থানের 'যোগী' মহন্ত বালকনাথ। মরুরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র তিজারাতে কংগ্রেসকে হারিয়ে ৬০০০ ভোটে গেরুয়া পতাকা উড়িয়েছেন তিনি।
মহন্ত বালকনাথ আলওয়ারের বিজেপি সাংসদ। তবে তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ইমরান খানের বিরুদ্ধে হেভিওয়েট আসন তিজারাতে প্রার্থী করেছিল দল। ইমরানের বিরুদ্ধে কার্যতই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন মহন্ত। তাঁর দাবি অনুসারে, এই বিধানসভা নির্বাচন রাজনীতির ময়দানে ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ। সেই খেলাতেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ পকেটে পুরে বেরিয়ে গেছেন তিনি।
বিজেপি এবারের নির্বাচনে কোনও রাজ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা করেনি। তবে, নির্বাচনের পর গত ১ ডিসেম্বর বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলে উঠে এসেছিল, ১০% ভোটদাতা রাজস্থানের যোগী ওরফে মহন্ত বালকনাথকে মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসাতে চান। ৩২% মানুষের ভোট কংগ্রেসের অশোক গেহলতের পক্ষে। ২১% মানুষ বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বিজেপির অন্য যে কোনও নেতাকে পেলেই তাঁরা খুশি।
মরুরাজ্যের রাজনীতিতে বালকনাথের উত্থান বেশ চমকপ্রদ। তিনি নিজেকে রাজস্থানের যোগী আদিত্যনাথ বলে মনে করেন। একাধিকবার তাঁর মুখে বুলডোজারের কথা শোনা গেছে। আরও নানা ঘটনায় এটা প্রায় একপ্রকার স্পষ্ট যে আদিত্যনাথকে নিজের রাজনৈতিক গুরু বলে মানেন বালকনাথ। এমনকী, নির্বাচনের প্রচারে এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বালকনাথের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল যোগীজিকে।
৩৯ বছর বয়সি স্বঘোষিত যোগীজি গেরুয়া কাপড় পরেন, ঠিক আদিত্যনাথের মতো। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের 'বড়ভাই' বলে সম্বোধন করেন বালকনাথ। ইমরান খানের বিরুদ্ধে তাঁকে যে আসনে প্রার্থী করেছিল দল, সেই তিজারা হরিয়ানা সীমান্তে একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। সেখানেও কাজ করেছে মোদী, তথা যোগী ম্যাজিক। এতদিন ওই আসনে বিজেপির বিধায়ক ছিলেন মামন সিং। তাঁর আসনে বালকনাথকে টিকিট দেওয়ায় প্রাথমিকভাবে মামন সিং হালকা বিদ্রোহের আভাস দিলেও পরে রাজস্থানের যোগীজীর হয়েই প্রচার করতে দেখা যায় তাঁকে।
কে এই মহন্ত বালকনাথ?
বালকনাথ হলেন রোহতকের মস্তনাথ মঠের অষ্টম মহন্ত। এটি নাথ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এবং এর অধীনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল রয়েছে। উল্লেখ্য, যদি আদিত্যনাথও এই একই নাথ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। বালকনাথ ১৯৮৪ সালে বেহেরোদের একটি গ্রামে যাদব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান বালকনাথকে মাত্র ছয় বছর বয়সে তপস্বী জীবনযাপন করার জন্য মহন্ত ক্ষেত্রনাথের আশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে মহন্ত ভণ্ডনাথের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন তিনি। সেখানেই তাঁর নতুন নামকরণ করা হয় বালকনাথ। ২০১৬ সালে তাঁকে নিজের উত্তরসূরি বলে ঘোষণা করেন ভণ্ডনাথ।
বালকনাথ দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। নির্বাচনের জন্য তিনি যে হলফনামা দাখিল করেছেন সেখান থেকে জানা গেছে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা রয়েছে। তিজারা কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৬১ হাজার। তার মধ্যে মুসলিম ভোটদাতা রয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ। এই বিপুল সংখ্যক মুসলিম ভোটের একটা বিরাট অংশ যে রাজস্থানের 'যোগীজি'র পক্ষেই ভোট দিয়েছেন, নির্বাচনের ফল থেকে তা স্পষ্ট।