
বুধবার মুম্বইয়ে বদলাপুর কাণ্ডে বিক্ষোভ।
শেষ আপডেট: 21 August 2024 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর কাণ্ডের মতো প্রতিবাদের আঁচ লেগেছে মহারাষ্ট্রের ঠানের বদলাপুরেও। মঙ্গলবারের পর বুধবারেও বনধ, প্রবল বিক্ষোভ-আন্দোলনের সাক্ষী থাকল শহর। উত্তেজনা ঠেকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা আজও বিঘ্নিত ছিল। অধিকাংশ স্কুল-কলেজে ধর্মঘট পালিত হয়। কেজি স্কুলের দুই ৪ বছরের নাবালিকাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে দুদিন ধরে উত্তাল হয়ে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শহর বদলাপুর। জনতার ক্ষোভের উত্তাপের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িও।
ধৃত অভিযুক্ত যুবক তথা কেজি স্কুলের সাফাইকর্মী অক্ষয় শিন্ডের সপক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে দাঁড়াবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কল্যাণ বার অ্যাসোসিয়েশন। এদিন বিভিন্ন শহরে উদ্ধব সেনা ও শারদ পাওয়ারের দল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কংগ্রেস, উদ্ধব সেনা, পাওয়ারের এনসিপি জোট মহা বিকাশ আঘাড়ি আগামী ২৪ অগস্ট মহারাষ্ট্র বনধের ডাক দিয়েছে।
বুধবার অভিযুক্ত শিন্ডেকে আদালতে তোলা হলে ২৬ অগস্ট পর্যন্ত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গতকালের বিক্ষোভে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনায় ১৭ জন পুলিশ কর্মী ও ৮ জন রেলকর্মী জখম হয়েছেন। এই ঘটনায় ৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও ৫০০টি এফআইআর করা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে।
ডিসিপি সুধাকর পাঠারে এদিন বলেন, বদলাপুরের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরের পরিবেশ ঠান্ডা হলে ফের তা চালু করা হবে। এদিন এই ঘটনার প্রতিবাদে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার মহিলা মোর্চা মুম্বইয়ের দাদরে সেনা ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। পাশাপাশি উদ্ধব সেনা এবং পাওয়ারের এনসিপি নবি মুম্বইয়ের শিবাজি চকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
বদলাপুর নিয়ে বিরোধী দলগুলির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এদিন তিনি বলেন, বদলাপুর নিয়ে যে বিক্ষোভ চলছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কারণ হল, বিরোধী দলগুলি এবং নির্যাতিতার পরিবারসহ অভিভাবক ও বদলাপুরে জনতা রাজ্যে মহিলা নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নীতি প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর লেড়কি বহিন যোজনায় মহিলাদের যখন মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে, তখন সরকারের উচিত সেই মেয়ে-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করা।
এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে। প্রতিবাদীদের অধিকাংশই বহিরাগত। যাঁরা এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের লজ্জাবোধ হওয়া উচিত।