
শেষ আপডেট: 24 January 2024 23:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামমন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে। এবার রামোপসনা শুরু হয়েছে মন্দিরে। প্রতিদিনই ভক্তদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে খুলবে মন্দিরের দরজা। পুজোপাঠ, আরতি হবে, রামলালাকে ভোগ নিবেদন করা হবে। কালো কৃষ্ণশিলায় তৈরি রামলালা এখানে পাঁচ বছরের বালক। তাই পরম স্নেহে তাঁর সেবা করবেন পূজারীরা। ভোগ দেওয়া হবে বালক রামের পছন্দমতোই। রোজ ঠিক কখন ঘুম ভাঙবে রামলালার, তারপর সারাদিন কী কী খাবেন তিনি, কী পোশাক পরবেন, কখন আরতি হবে তা জানিয়েছে রামমন্দির ট্রাস্ট।
রামলালার রোজের রুটিন কী?
রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বলেছেন, ব্রাহ্মমুহূর্তে অর্থাৎ ঠিক ভোর ৪টে নাগাদ ঘুম ভাঙানো হবে রামলালার। তবে তাঁর ঘুম ভাঙানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে রাত ৩টে থেকেই। এরপর গর্ভগৃহ ধোয়ামোছা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ হবে। ঘুম ভাঙানোর পর রামলালার শ্রীযন্ত্রকে মন্ত্রোচ্চারণ করে জাগরিত করা হবে। তারপর শুরু হবে মঙ্গল-আরতি। সাড়ে ৪টে থেকে পাঁচটা অবধি হবে আরতি।
রামলালার দর্শন শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। ওই সময়েই জনসাধারণের জন্য খোলা হবে মন্দিরের দরজা। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা অবধি মন্দির খোলা থাকবে। মাঝে বেলা ১টা থেকে ৩টে অবধি রামলালার দুপুরের ভোজন ও বিশ্রামের জন্য মন্দির বন্ধ থাকবে। ফের দর্শন শুরু হবে ৩ টের পরে, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। সন্ধে ৭টায় সন্ধ্যারতি হবে।
ব্রেকফাস্টে রামলালা খাবেন পুরী-সবজি-ক্ষীর। দুপুরের ভোগের আগে আবারও রাবড়ি-ক্ষীর দেওয়া হবে। বালক রামকে বারে বারেই দেওয়া হবে গরম দুধ ও ফল।
পুজোর রীতি অনুযায়ী, সকালে ঘুম থেকে তোলার পর রামলালাকে লাল চন্দন আর মধুতে স্নান করানো হবে। বিধি মেনে পুজো করবেন রামলালার প্রধান পূজারী মোহিত পাণ্ডে। দুপুরের বিশ্রাম, সন্ধ্যার ভোগ ও আরতির পর শয়ন দেওয়ার আগে ১৬ মন্ত্র প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। দিনে পাঁচবার আরতি হবে।
রামলালাকে সাজানোর জন্য বিশেষ বস্ত্র তৈরি হয়েছে। এক একদিন এক একরকম পোশাক ও গয়নায় সাজবেন শিশু রাম। দিন হিসেবে পোশাকের রং ঠিক হবে। সোমবার রামলালা সাদা পট্টবস্ত্র পরবেন, বিশেষ দিনে তা হবে হলুদ। প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিন রামলালাকে হলুদ রঙের বেনারসী ধুতি পরানো হয়েছিল, গায়ে ছিল লাল রঙের পট্টবস্ত্র। আজ মঙ্গলবার লাল বস্ত্রে সাজানো হবে রামকে। বুধবার পোশাকের রং হবে সবুজ, বৃহস্পতিবার হলুদ, শুক্রবার হাল্কা হলুদ বা ক্রিম রঙের পোশাক, শনিবার নীল এবং রবিবার গোলাপি রঙের পোশাক পরবেন রামলালা। প্রতিদিন নিয়ম মেনে হবে মন্ত্রপাঠ, শাস্ত্র আলোচনা। রাম ভজন হবে রোজই।
পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন কালো গ্রানাইট শিলা দিয়েই তৈরি হয়েছে পাঁচ বছরের রামলালার দিব্যমূর্তি। রামমন্দির ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, ওই কালো গ্রানাইটকেই কৃষ্ণশিলা হিসেবে পুজো করে তার থেকেই মূর্তি তৈরি হয়। ওই কালো গ্রানাইট খুবই বিরল। এর বয়স কম করেও ২৫০ কোটি বছর। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন গ্রানাইট শিলায় তৈরি হয়েছে রামলালার বিগ্রহ। প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিন রামলালার পরনে ছিল হলুদ রঙের বেনারসি ধুতি। গায়ে লাল পট্টবস্ত্র। তাতে সোনার জরির নকশা করা। লাল পট্টবস্ত্রে সোনার সুতো দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, ময়ূর। মোট ১৪ রকম গয়না পরানো হয়েছে রামলালাকে। মাথার সোনার মুকুট, হিরে ও সোনার তিলক, চার রকম মণিহার, কোমরবন্ধবী, দুই বাহুতে বাহুবন্ধ, দু’হাতের স্বর্ণবালা, কানের দুল এবং আঙুলে বড় সোনা-হিরের আংটি। তাছাড়াও গলায় রয়েছে বিজয়মালা বা বৈজয়ন্তী মালা। প্রায় ১৫ কেজি সোনা, ১৮ হাজার পান্না ও হিরে, চুনি দিয়ে তৈরি গয়না পরানো হয়েছে রামলালাকে।