
লাদাখের আকাশে অভিনব মেরুজ্যোতি।
শেষ আপডেট: 11 May 2024 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের আকাশে হঠাৎ করেই চোখ-ধাঁধানো আলোর ছটা। রংবেরঙের আলোর রশ্মি (Northern Lights) ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে। আকাশ জুড়ে শুধুই আলোর রোশনাই। অরোরা বোরিয়ালিস! এতদিন যে দৃশ্য দেখা যেত উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর আকাশে, এখন তা দেখা যাচ্ছে ভারতের লাদাখেও!
পৃথিবীর উপরেও সম্প্রতি সৌরঝড়ের প্রভাব পড়েছে। সূর্যের ঝড়ের ফলে বিচ্ছুরিত সৌরপদার্থের ধাক্কা এসে লেগেছে পৃথিবীর চৌম্বকীয় তরঙ্গে। যার ফলে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। আমেরিকার ন্যাশনাল ওসানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়ার তরফে জানানো হয়েছে, সৌরঝড়ের ধাক্কায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় তরঙ্গে ঝড় উঠেছে। এই ঝড়ের ফলে পৃথিবীর বুকে একাধিক দেশের আকাশে দেখা গিয়েছে অভিনব মেরুজ্যোতি।
লাদাখের হ্যানলে এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে আকাশজুড়ে আলোর বন্যা বইছে। নান-নীল-কমলা-গোলাপি আলোয় ভরে উঠেছে আকাশ। অভিনব মেরুজ্যোতি দেখা যাচ্ছে ভারত থেকেও।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে সৌর বাতাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মেরুজ্যোতি বা অরোরা বোরিয়ালিসের উদ্ভব। এই সংঘাতের ফলে ম্যাগনেটোস্ফেরিক প্লাজমায় ইলেকট্রন, প্রোটন ও অন্যান্য চার্জড পার্টিকেলের (charged particles) গতিপথ পাল্টে যায়। ফলে তারা এসে জমা হয় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অন্তর্গত থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ারে। এর ফলে মেরু অঞ্চলে রাতের আকাশ ভরে ওঠে রংবেরঙের আলোয়। তৈরি হয় অরোরা বোরিয়ালিস।
লাদাখের হ্যানলেতে রয়েছে ইন্ডিয়ান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজার্ভেটরি। তাদের ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে লাদাখের আকাশে আলোর খেলা। সুমেরুপ্রভা সবচেয়ে ভালো দেখা যায় কানাডার হাডসন উপসাগরীয় অঞ্চল, উত্তর স্কটল্যান্ড, দক্ষিণ নরওয়ে এবং সুইডেনের কিছু অঞ্চল থেকে। কুমেরুপ্রভা দেখা যায় নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা থেকে। এইসব জায়গা থেকে রাতের বেলায় প্রায় নিয়মিতই মেরুজ্যোতি দেখা যায়। এবার তা দেখা যাচ্ছে ভারতের লাদাখ থেকেও।