মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শহর ঔরঙ্গাবাদের রেলস্টেশন এখন ‘ছত্রপতি সম্ভাজিনগর’। মারাঠা সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক সম্ভাজি মহারাজের সম্মানে এই নাম পরিবর্তন কার্যকর করল দক্ষিণ-মধ্য রেলওয়ে।
.png.webp)
ঔরঙ্গাবাদ রেলস্টেশন
শেষ আপডেট: 26 October 2025 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহরের একটি বদল এসেছে। দক্ষিণ-মধ্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে ঔরঙ্গাবাদ রেলস্টেশন পরিচিত হবে 'ছত্রপতি সম্ভাজিনগর রেলস্টেশন' নামে। এই নতুন নামকরণ শহরের মারাঠা ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতি সম্মান জানানোর একটা পদক্ষেপ।
এই নামকরণের সিদ্ধান্ত মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি মারাঠা সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের পুত্র সম্ভাজি মহারাজের অবদানকে স্মরণ করার একটি প্রয়াস।
ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজ ১৬৮০ থেকে ১৬৮৯ সাল পর্যন্ত মারাঠা সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দেন। তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে অটল সংগ্রাম এবং সাহস ও নেতৃত্বের জন্য মারাঠা স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে গণ্য হন।
ঔরঙ্গাবাদ শহরের নাম ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালে বদলে 'ছত্রপতি সম্ভাজিনগর' করা হয়েছিল। একসময় মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের শাসনকালে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও, এই শহর মারাঠা ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
শহরের নাম পরিবর্তনের পর রেলস্টেশনের নামও এই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নামে রাখার সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ-মধ্য রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ও মহারাষ্ট্র সরকারের নির্দেশ অনুসারে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অক্টোবর মাসে কার্যকর হয়েছে। রেলস্টেশনের সাইনবোর্ড, টিকিটিং সিস্টেম, অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্ম এবং সমস্ত অফিসিয়াল নথিতে এখন থেকে নতুন নাম ব্যবহৃত হবে।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঔরঙ্গাবাদ রেলস্টেশনের কোড (AWB) অপরিবর্তিত থাকবে, যাতে ট্রেন পরিষেবায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে।
সেকেন্দরাবাদ ডিভিশনের অধীনে থাকা এই রেলস্টেশনটি মুম্বই, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ, পুণে এবং অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ২০টি ট্রেনের মাধ্যমে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরকে সংযুক্ত করে।
শহরটি অজন্তা ও ইলোরা গুহা, বিবি কা মকবরা এবং দৌলতাবাদ কেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলোর জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকরা আশা করছেন, নতুন নামের মাধ্যমে শহরের মারাঠা ঐতিহ্য আরও ভালভাবে তুলে ধরা যাবে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ বাড়াবে এবং পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনবে।