
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 13 June 2024 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাবালিকা মেয়ের অন্তর্বাস টেনে খুলে ফেলা এবং তার পরে নিজের পোশাক খুলে নগ্ন হওয়া-- এটা কেবলই 'শ্লীলতাহানি'র পর্যায়ে পড়ে, একে 'ধর্ষণের চেষ্টা' বলা যায় না। ৩৩ বছরের পুরনো একটি মামলায় রায় দেওয়ার সময়ে অভিযুক্তর সাজা কমিয়ে এমনই মন্তব্য করল রাজস্থান হাইকোর্ট।
বিচারপতি অনুপকুমাপ ধন্দের বেঞ্চের এই রায়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। বিচারপতি বলেন, সংবিধানে লেখা 'অ্যাটেম্পট টু রেপ'-এর ক্ষেত্রে অ্যাটেম্পট-এর অর্থ ধরতে হবে, প্রস্তুতি পর্বের চেয়েও আরও বেশি এগিয়ে গেছে অভিযুক্ত। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। এক্ষেত্রে, 'একজন মহিলার শালীনতা ক্ষুণ্ণ করা'র অপরাধ হিসেবে যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য, অভিযুক্ত তাই পাবে।
বিচারপতি আরও বলেন, 'আমার মতে, এই মামলায় অভিযুক্ত যা করছেন, তাতে ধর্ষণের চেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। কারণ আক্রান্ত মেয়েটি শ্লীলতাহানির মুখে দাঁড়িয়ে অভিযুক্তকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে অভিযুক্ত ধর্ষণের আগে 'প্রস্তুতি'র পর্বও পার করেনি। তাই এটি কোনওভাবেই ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার মামলা নয়, এটি পরিষ্কার ৩৫৪ ধারার অর্থাৎ শ্লীলতাহানির মামলা।'
ঘটনাটি অবশ্য আজকের নয়, ১৯৯১ সালের। টঙ্ক জেলার টোদারাইসিংহে বাসিন্দা, অভিযোগকারী ব্যক্তি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, যে তাঁর ৬ বছর বয়সি নাতনি একটি সরকারি জলসত্রে জল খাচ্ছিল, সেখানেই ২৫ বছরের যুবক সুভালাল এসে তাঁর নাতনিকে জোর করে ধর্মশালায় নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার করলে গ্রামবাসীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। তা নইলে ধর্ষিত হতে হতো তাঁর নাতনিকে। এই অভিযোগের সময়ে সুভালালের বয়স ছিল ২৫ বছর।
এই মামলার রায় দিতে গিয়েই এত বছর পরে রাজস্থান হাইকোর্ট বলল, আদালতের মতে, 'ধর্ষণের চেষ্টা' অপরাধের অধীনে শাস্তিযোগ্য কাজের জন্য তিনটি ধাপ পূরণ করতে হবে। প্রথম পর্যায়টি হল, অপরাধী প্রথমে অপরাধটি করার কথা মনে মনে ঠিক করে এবং উপভোগ করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, তিনি সেই ধর্ষণটি করার প্রস্তুতি নেন। তৃতীয় পর্যায়ে অপরাধী অপরাধ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ্য পদক্ষেপ নেয়। এই মামলার ক্ষেত্রে আক্রান্ত মেয়েটির তরফে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই ঘটনা সেই প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করেছে।
মামলার বিবরণ অনুসারে, 6 বছর বয়সি মেয়েটির দাবি, অভিযুক্ত সুভালাল তার এবং নিজের পোশাক খুলে ফেলে এই সময়ে সে চিৎকার করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সুভালাল। এই ঘটনায় টঙ্কের জেলা আদালত সুভালালকে ধর্ষণের চেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছিল। বিচার চলাকালে আড়াই মাস কারাগারেও ছিল সে। তার পরেই আবেদন করেছিল হাইকোর্টে। সেখানে সাব্যস্ত হল, তার অপরাধ কেবলই 'শ্লীলতাহানি'!