
শেষ আপডেট: 16 October 2023 09:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০২ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন প্রয়াত এ পি জে আব্দুল কালাম। নামজাদা এই বিজ্ঞানীকে রাষ্ট্রপতি পদে সমর্থন করেছিল বেশিরভাগ দল। ২৫ বছর পর জানা যাচ্ছে, সেবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীকেই দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন তাঁর মিডিয়া অ্যাডভাইসর প্রবীণ সাংবাদিক অশোক ট্যান্ডন। সদ্য প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই 'দ্য রিভার্স সুইং: কলোনিয়ালিজম টু কোপারেশন ' বইয়ে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত প্রধামন্ত্রী বাজপেয়ীর মিডিয়া সংক্রান্ত কাজকর্ম দেখতেন।
বইয়ে তিনি লিখেছেন, প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বাজপেয়ী বলেছিলেন, সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। একজন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির চেয়ারে গিয়ে বসলে তা দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। ভারতের রাষ্ট্র কাঠামোর তা সম্পূর্ণ বিপরীত ভাবনা। আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার আলংকারিক স্তম্ভ মাত্র। কর্মরত প্রধানমন্ত্রী সেই পদে বসলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
প্রশ্ন হল, বাজপেয়ীকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব কে দিয়েছিলেন, কেন দিয়েছিলেন? ট্যান্ডন লিখেছেন, লালকৃষ্ণ আদবানিকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অনুমান করা হচ্ছে আরএসএসের একাংশ এমন প্রস্তাব দিয়ে থাকতে পারেন। আদবানি তখন ছিলেন দেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তখনও তিনি মহম্মদ আলি জিনহাকে ধর্মনিরপেক্ষ আখ্যা দিয়ে আরএসএস ও বিজেপির বিরাগভাজন হননি।
বাজপেয়ীর পর আদবানির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জল্পনা বিজেপিতে বরাবরই ছিল। ২০০৪ এর লোকসভা ভোটে বাজপেয়ী সরকার হেরে যাওয়ার পর দশ বছর ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। ২০১৪ - ভোটে বিজেপি নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে। কিন্তু বাজপেয়ীকে মাঝপথে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাবের কথা আগে শোনা যায়নি। ২০০২ এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনিই বেছে নেন বিজ্ঞানী কালামকে। যদিও সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদব দাবি করেছিলেন, কালামের নাম তিনিই বাজপেয়ীর কাছে প্রস্তাব করেছিলেন।