.jpeg)
‘Foreign Official #1’ কে? গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 21 November 2024 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ফরেন অফিসিয়াল#1' কে? যিনি গৌতম আদানির (Gautam Adani) প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ভারতীয় ধনকুবের শিল্পপতি আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ ওঠার পর এই রহস্যময় লোকটি নিয়ে নানান কানাঘুষো শুরু হয়েছে। যাকে আমেরিকার অভিযোগের ভাষায় ‘Foreign Official #1’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
জানা গিয়েছে, আদানির সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের এই বিদেশি আধিকারিকের (আমেরিকার ভাষায়) তিনটি গোপন বৈঠক হয়েছিল। ২০২১ সালের ৭ অগস্ট, ১২ সেপ্টেম্বর এবং ২০ নভেম্বর দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এই ভারতীয় সরকারি আধিকারিক অত্যন্ত উচ্চপদে অন্ধ্রপ্রদেশে কর্মরত। তিনিই সৌরশক্তি উৎপাদনের চুক্তি সম্পাদনের মধ্যস্থ ছিলেন এবং যার কারণেই এই ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হয়েছিল। এই বৈঠকগুলিরই ফল হিসাবে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত সৌরশক্তি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (SECI) সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছিল।
মার্কিন আইনজীবীদের অভিযোগ, এই চুক্তি সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্টভাবে অন্ধ্রপ্রদেশে ১৭৫০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও আরও চারটি রাজ্যের নাম এসেছে। সেগুলি হল- তৎকালীন কংগ্রেস শাসিত ছত্তীসগড়, বিজেডি শাসিত ওড়িশা, ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর। অভিযোগে দাবি, আদানির সহযোগীরা এই কাজে এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেছিল। যাতে ঘুষ সংক্রান্ত আলোচনা, দরদস্তুর এবং টাকা লেনদেনের ব্যক্তি, তার এলাকার বিস্তারিত প্রমাণ থাকে।
আর এনিয়েই বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিজেপি মুখপাত্র অমিত মালব্য। তিনি বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার পালটা যুক্তি তুলে ধরেছেন। মালব্য বৃহস্পতিবার বলেন, বিরোধীরা যেন মনে রাখে অভিযোগ নিয়ে খড়্গহস্ত হওয়ার আগে ঘুষ নেওয়ার জবাব দিতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কংগ্রেস এবং বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির নামই উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ওঠার সময়টিও হল সংসদের শীত অধিবেশনের ঠিক মুখে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের গদিতে বসার আগে আগে।
এদিনই এই ইস্যুতে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানিকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তোলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আদানি নিয়ে তুলোধনা করে ছাড়েন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, আদানির যাবতীয় দুর্নীতিকে আড়াল করে চলেছেন মোদী। আমেরিকায় অভিযোগ ও পরোয়ানা জারির পর এই মুহূর্তে শিল্পপতি গৌতম আদানিকে গ্রেফতার করা উচিত ।
এদিন দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল বলেন, ২০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির নায়ক এদেশে খুলেআম ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কারণ তাঁর রক্ষাকর্তা হলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদী। কংগ্রসের লোকসভা সদস্য রাহুল আরও বলেন, এটা এখন পরিষ্কার এবং প্রমাণিত যে, আদানি দেশের এবং আমেরিকার আইন ভেঙেছেন। আদানি কীভাবে খোলা হাওয়ায় ঘুরে বেড়াতে পারেন, তা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। মার্কিন আদালত যা করেছে, তাতে এটা প্রমাণ এতদিন ধরে আমরা যা চলেছি তা সব সত্যি! প্রধানমন্ত্রী আদানিকে রক্ষা করে চলেছেন এবং তিনিও আদানির সঙ্গে এই দুর্নীতিতে জড়িত।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দ্বিতীয় মোদী সরকারের আমল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গৌতম আদানির সম্পর্ক ও হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট নিয়ে তুলোধনা করে আসছিলেন। এদিন আমেরিকায় আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তেড়েফুঁড়ে আসরে নামে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সকালেই বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে, কংগ্রেস বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির তদন্তের যে দাবি জানিয়ে এসেছে তা যথার্থ।
একটি এক্সবার্তায় জয়রাম আরও লেখেন, গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকায় যে অভিযোগ উঠেছে তা ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের যাথার্থ্যকেই প্রমাণ করে। আমরা গোড়া থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি যে, আদানি-মোদীর সম্পর্ক এবং আদানি গ্রুপ নিয়ে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক যৌথ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বসতে চলেছে লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন। দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের সঙ্গে আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ দানের অভিযোগের মতো হাতে গরম ইস্যু পেয়ে গেল বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। ফলে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোটকে চারদিক থেকে চেপে ধরবে ইন্ডিয়ার শরিক দলগুলি একথা বলাই বাহুল্য। বিশেষত, কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই আক্রমণের অস্ত্রে শান দিতে শুরু করেছেন। ছেড়ে কথা বলবে না অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসও।