প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি এই সমালোচনার কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও দেয়নি বিজেপি ও আরএসএস। রাহুল এর আগেও বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আরএসএস এবং বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তা নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পাল্টা আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতাকে।

শেষ আপডেট: 2 October 2025 19:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে নাগপুরে শতবর্ষ উদযাপন নিয়ে ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এমন দিনেই আরএসএস এবং বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাহুল গান্ধী। তাঁর কথায়, বিজেপি-আরএসএসের আদর্শের মূলে রয়েছে কাপুরুষতা। রাহুল বলেছেন বিজেপি-আরএসএস দুর্বলদের আঘাত করে শক্তিশালীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলে।
আমেরিকার কলম্বিয়ার ইআইএ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের একটি মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'বিজেপি-আরএসএসের প্রকৃত চরিত্র কী আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যদি বিদেশমন্ত্রীর একটি বক্তব্য খেয়াল করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘চিন আমাদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা কীভাবে তাদের সঙ্গে লড়াই করব?' রাহুল বলেন আদর্শের কেন্দ্রে কাপুরুষতা থাকলে তবেই কেউ এইরকম বলতে পারেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা দামোদর বিনায়ক সাভারকরের লেখা থেকে একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। রাহুল বলেন, 'সাভারকর তাঁর বইয়ে লিখেছেন, একবার তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে মারধর করেন এবং সেদিন তাঁরা খুব খুশি হয়েছিলেন'। রাহুল এরপর যোগ করেন, যদি পাঁচজন মিলে একজনকে মারধর করে এবং তাতে কেউ খুশি হয়, সেটা কাপুরুষতা। এটাই আরএসএসের আদর্শ—দুর্বলদের আঘাত করা।
প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি এই সমালোচনার কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও দেয়নি বিজেপি ও আরএসএস। রাহুল এর আগেও বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আরএসএস এবং বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তা নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পাল্টা আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতাকে। বিজেপির অভিযোগ রাহুল বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের নিন্দা করা পছন্দ করেন। সমালোচনা থাকলে তা দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। রাহুলের সঙ্গে মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসের বোঝাপড়া রয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির। এই মার্কিন ধনকুবের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র বিকাশে অর্থ সহায়তা করে থাকেন। ভারতে নরেন্দ্র মোদীর জমানায় গণতন্ত্র বিপন্ন বলে একাধিকবার সরব হয়েছেন এই মার্কিনি। তিনি এই ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন কংগ্রেসকে। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেছে আমাদের ভালটা আমরাই ভালো বুঝি। বিদেশিদের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। তারপরও রাহুলের সমালোচনাকে দেশবিরোধী তকমা দিয়েছে বিজেপি। তবে আরএসএস নেতৃত্ব কখনোই কংগ্রেস নেতাকে তীব্র আক্রমণ শানায়নি। সংগঠনের শততম বর্ষের অনুষ্ঠানের দিনে রাহুলের এমন কঠোর আক্রমণের জবাবে সঙ্ঘ কোনও প্রতিক্রিয়া দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার।
ভাষণে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন রাহুল। তিনি বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটাই আক্রমণের মুখে। ভারতে বহু ধর্ম, ঐতিহ্য ও ভাষা রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সবার জন্য জায়গা করে দেয়। কিন্তু বর্তমানে, এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চারদিক থেকে আক্রমণের শিকার।'
তিনি নরেন্দ্র মোদী সরকার ও আরএসএসের বিরুদ্ধে ভারতের বহুত্ববাদী ভিত্তিকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন এবং গণতন্ত্রের উপর এই আক্রমণকে ভারতের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বলে উল্লেখ করেন।
রাহুল ভারত ও চিনের রাজনৈতিক কাঠামোর তুলনা টেনে বলেন,ভারতের ১৪১ কোটি মানুষের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভারতের ব্যবস্থা চিনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। চিন অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়। ভারত বিকেন্দ্রীকৃত এবং বহু ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্ম নিয়ে গঠিত। ভারতের কাঠামো অনেক বেশি জটিল। তিনি আরও বলেন, কর্তৃত্ববাদী উপায়ে বৈচিত্র্যকে দমন করা ভারতে সম্ভব নয়।
কংগ্রেস নেতা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বৈচিত্র্যের দিকটি তুলে ধরেন। বলেন ভারতে ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র বিকাশ অত্যন্ত জরুরি
তাঁর কথায়, ভারতে ১৬-১৭টি প্রধান ভিন্ন ভাষা ও ধর্ম আছে। এই ভিন্ন ঐতিহ্যগুলিকে বিকাশের সুযোগ দেওয়া, নিজেদের প্রকাশ করার জায়গা দেওয়া আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চিনের মতো করতে পারি না—মানুষকে দমন করে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চালানো আমাদের কাঠামো মেনে নেবে না।'