
অধ্যাপক অলক ত্রিপাঠীর নেতৃত্বে মহিলা সদস্য সহ পাঁচজনের একটি টিম গঠিত হয়েছে।
শেষ আপডেট: 20 February 2025 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দুদশক পর ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) কৃষ্ণ কর্মভূমি দ্বারকায় সমুদ্রের নীচে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের খোঁজে নামল। এএসআইয়ের জলের নীচে কাজ করায় তালিমপ্রাপ্ত একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এই উদ্দেশ্যে। তারাই গুজরাতের দ্বারকাধীশ মন্দির উপকূলে ও বেট দ্বারকায় সমুদ্রের নীচে হারিয়ে যাওয়া ৪০০০ বছরের পুরনো শহরের তল্লাশি চালাবে। সমুদ্রের নীচে দেশের ঐতিহ্যশালী ও সাংস্কৃতিক পরম্পরা কী ছিল, তারই খোঁজ চলছে। উল্লেখযোগ্য, এই প্রথম মহিলা ডুবুরি-বিজ্ঞানীরা এই কাজে হাত লাগিয়েছেন।
জনশ্রুতি কৃষ্ণের আমলের পরিকল্পিত নগরী দ্বারকা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। মথুরা থেকে দ্বারকায় এসে কৃষ্ণ নতুন করে যদুবংশ স্থাপনা করেছিলেন। এই গুজরাতের প্রভাসেই দেহত্যাগ করেন কৃষ্ণ। সেই আমলেও দ্বারকার অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। পরে প্রাকৃতিক কারণে সমুদ্র এগিয়ে আসায় অতীতের দ্বারকা বিলীন হয়ে যায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
২০০৫ এবং ২০০৭ সালে শেষবার দ্বারকা ও ওখা উপকূলের কাছে বেট দ্বারকা নামে একটি দ্বীপের কাছে এই তল্লাশিকাজ চলেছিল। তার পর থেকে বন্ধই ছিল এএসআইয়ের এই কাজ। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, দ্বারকায় ফের শুরু হয়েছে সমুদ্রের নীচে ইতিহাসের খোঁজ। এএসআইয়ের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক অলক ত্রিপাঠীর নেতৃত্বে মহিলা সদস্য সহ পাঁচজনের একটি টিম গঠিত হয়েছে। যার মধ্যে তিনজনই হলেন মহিলা।
তাঁরা হলেন, অপরাজিতা শর্মা, পুনম বিন্দ, রাজকুমারী বরবিনা। এই দল গোমতী খাঁড়ির কাছে একটি এলাকাকে বেছে নিয়ে প্রাথমিক খোঁজ শুরু করেছেন। এএসআইয়ের এই জলের নীচে খোঁজ ও গবেষণা এবং পরীক্ষার বিভাগটি এর আগে লাক্ষাদ্বীপের বাঙ্গারাম দ্বীপ, তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরম, গুজরাতের দ্বারকা, মণিপুরের লোকতক লেক এবং মহারাষ্ট্রের এলিফান্টা দ্বীপের মতো অসংখ্য জায়গা আবিষ্কার করেছে।
কৃষ্ণের দেহত্যাগের পর কলিযুগের সূচনায় দ্বারকা আরব সাগরে বিলীন হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারকাধীশ মন্দিরে পুজোপাঠ করেছিলেন। সেবার সমুদ্রের নীচে গিয়ে তিনি ধ্যান করেন। ভগবান কৃষ্ণের কাছে তাঁর হারানো নগরীর কাছে পৌঁছনোর ছবিও শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।