ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় অধ্যায়—সিন্ধু লিপি। দীর্ঘ সময় ধরে গবেষকরা এই লেখার অর্থ উন্মোচনের চেষ্টা করে চলেছেন, কিন্তু সফল হননি।

সিন্ধুলিপি
শেষ আপডেট: 21 June 2025 15:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় অধ্যায়—সিন্ধু লিপি। দীর্ঘ সময় ধরে গবেষকরা এই লেখার অর্থ উন্মোচনের চেষ্টা করে চলেছেন, কিন্তু সফল হননি। এবার সেই রহস্যভেদে উদ্যোগী হয়েছে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (ASI)।
আগামী ২০ থেকে ২২ আগস্ট গ্রেটার নয়ডার পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ইনস্টিটিউট অফ আর্কিওলজিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সেমিনার, যার শিরোনাম: "Decipherment of Indus Script: Current Status and Way Forward"।
এই সেমিনারে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে গবেষক, ভাষাবিদ, ইতিহাসবিদ, এবং যাঁরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিন্ধু লিপি পাঠোদ্ধারে কাজ করছেন—তাঁদের সকলকে। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন হবে অনলাইন ও অফলাইন—দু'ভাবেই।
এএসআই-এর অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক অলোক ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, “এই সেমিনারের উদ্দেশ্য হল—সিন্ধু লিপি নিয়ে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন, তাঁদের গবেষণার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার একটি যৌথ মঞ্চ তৈরি করা।”
ঘটনা হল, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন সিন্ধু লিপি পাঠোদ্ধারকারীদের জন্য এক মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেন। তার পাঁচ মাস পর এএসআই ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের এই সেমিনার অনেকের চোখে গবেষণার গতি বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ।
গবেষক বহতা মুখোপাধ্যায় এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত করে বলেছেন, “এতে আরও অনেক নতুন গবেষক এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে আগ্রহী হবেন।”
সিন্ধু সভ্যতা প্রথম আলোচনায় আসে ১৯২৪ সালে, ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার জন মার্শালের খনন অভিযানের পর। ১৯৩১ সালের মোহেঞ্জোদারোর খনন রিপোর্টে প্রথমবার বিস্তারিতভাবে উঠে আসে এই রহস্যময় লিপির কথা।
প্রাচীন এই লিপি মূলত দেখা যায় মাটির পাত্র, সিল ও টেরাকোটা ট্যাবলেটের ওপর খোদাই করা চিহ্নে। তবে আজও এর প্রকৃত পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি। অনেকের মতে, লিপিটির মৌলিক চিহ্নের সংখ্যা ৪০০-রও বেশি।
গত দশকে দুই ভারতীয় গবেষক—বহতা মুখোপাধ্যায় এবং ভরত রাও ওরফে যজ্ঞদেবম, ভিন্ন পদ্ধতিতে এই লিপির পাঠোদ্ধারে কাজ করে চলেছেন। একজন এর বাণিজ্যিক ও কাঠামোগত দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন, অন্যজন ব্যবহার করেছেন ক্রিপ্টোগ্রাফি।
এএসআই মনে করছে, এই সেমিনার বর্তমান গবেষণাকে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের গবেষণার পথও খুলে দেবে। সেমিনারের শেষে প্রকাশিত হবে প্রবন্ধগুলির সংকলন। সিন্ধু সভ্যতা তার সময়ের এক বিস্ময়, কিন্তু এর ভাষা আজও ইতিহাসের অব্যাখ্যাত অধ্যায়। হয়তো এই সেমিনার থেকেই সেই রহস্যের দরজা প্রথমবার খুলে যেতে পারে।