
আন্দোলনের ছবি (সৌজন্যে- গুগল)
শেষ আপডেট: 31 March 2025 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল-বাংলা, দুই প্রান্তের দুই শহর। মিলে গেল প্রতিবাদের বৃক্ষতলে। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কেরলে আশা কর্মীরা সোমবার কামিয়ে ফেললেন মাথার চুল। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে একই কাজ করলেন আন্দোলনরত পুরুষরাও।
কেরলে ন্যায্য় পারিশ্রমিক ও সম্মানের দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন আশা কর্মীরা। আজ আন্দোলনের ৫০ দিন। স্লোগান, মিছিল, বিভিন্নরকমের প্রতিবাদ দেখিয়েও লাভ হয়নি কোনও। আজ অর্থাৎ সোমবার, প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকাল থেকেই জমায়েত শুরু করেন আশা কর্মীরা। বেলা বাড়তে শুরু হয় উত্তেজনা। কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে, সরকারের বিরুদ্ধে দাবি দাওয়া চাইতে চাইতে রাগে ফেটে পড়েন।
পরে কয়েকজন নিজের চুল কেটে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। পরে কয়েকজন মাথা কামিয়ে ফেলেন।
এই ঘটনা মনে করিয়ে বাংলার চাকরিপ্রার্থীদের কথা। দীর্ঘদিন ধরে হকের চাকরির জন্য ধর্মতলায় লড়তে লড়তে একটা সময় এমনই পদক্ষেপ করেছিলেন তাঁরাও। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাগে, লজ্জায় মাথা কামিয়ে ফেলেছিলেন এক চাকরিপ্রার্থী।
কেরলে এদিন এক আন্দোলনকারী গোটা বিষয়টি নিয়ে বলেন, 'আমাদের জীবনই কেটে ফেলা হচ্ছে। মন্ত্রীদের কাছে আমাদের দুঃখ-কষ্টের কোনও মূল্য নেই। মাত্র ২৩২ টাকা দৈনিক ভাতা দিয়ে আমরা কীভাবে চালাব?'
আন্দোলনের অন্যতম মুখ মিনি এস. জানান, এটা শুধুমাত্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের দৃঢ় প্রতিবাদ। এই আন্দোলন রাজ্যের সর্বত্র এভাবেই ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, সেখানকার রাজ্য সরকারের দাবি, এটা কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব। যদিও কেন্দ্রের পাল্টা যুক্তি, কেরল যথাযথ হিসাব সংক্রান্ত নথি জমা না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সহায়তার টাকা আটকে আছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা সংসদে ঘোষণা করেন, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এনএইচএম) মিশন স্টিয়ারিং গ্রুপ আশা কর্মীদের টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কবে কার্যকর হবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। এই প্রতিবাদ আগামী দিনে কতদূর গড়াবে, সেটাই এখন দেখার।