
শেষ আপডেট: 4 February 2024 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা পাঁচবার ইডির সমন এড়িয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আগাগোড়াই তিনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তলবকে বেআইনি বলে এসেছেন। গ্রেফতারের জন্যই কেজরিওয়ালকে বার বার তলব করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে আম আদমি পার্টি। আর এইসবের মাঝেই তাঁকে বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কেজরিওয়াল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রতিনিয়ত তাঁর উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।
কোনও পরিস্থিতিতেই ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে আপ প্রধান বলেন, ' যে কোনও অবস্থাতেই এই চাপের কাছে মাথা নত করব না। যত খুশি ষড়যন্ত্র করুক, কিছু করতে পারবে না। কিছুতেই হার মানব না।'' এমনকী বিজেপিতে যোগদান করলেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তুলে নেওয়া হবে বলে দাবি করেন কেজরিওয়াল।
কয়েকদিন আগেই আম আদমি পার্টির বিধায়কদের কোটি কোটি টাকার লোভ দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেন কেজরিওয়াল। দলের সাত বিধায়ককে ২৫ কোটি টাকার বিনিময়ে বিজেপি কেনার চেষ্টা করছে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে এমন অভিযোগও আনতে দেখা গিয়েছে। কেজরিওয়ালের সেই দাবির বিরোধিতা করে দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। নোটিশ হাতে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল পৌঁছে যায় কেজরিওয়ালের বাসভবনে। আপের অপর মন্ত্রী অতিশির বাড়িতেও রবিবার পৌঁছয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
শনিবার রাতে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয় ইডি। শনিবার দিল্লির আদালতে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) ৬৩ (৪)ধারায় অভিযোগ জানিয়েছে ইডি। সূত্রের খবর, কেজরিওয়ালের হাজিরা নিশ্চিত করতে বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার জন্য আদালতে আবেদন জানাতে পারেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কেজরিকে দিল্লির আবগারী দুর্নীতি সূত্রে বারবার সমন পাঠাচ্ছে ইডি। আপ সূত্রের খবর, প্রায় দু'বছর হতে চলল প্রাক্তন আবগারি মন্ত্রী মণীশ সিশোদিয়া মদ দুর্নীতির মামলায় জেলে রয়েছেন। তিনি ছিলেন কেজরিওয়ালের দক্ষিণ হস্ত। মাস ছয়েক হতে চলল জেল বন্দি আপের আর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং। এই পরিস্থিতিতে কেজরিওয়ালও গ্রেফতারের আশঙ্কা করছেন। তাই তিনিও জেলে চলে গেলে পার্টির সমূহ বিপদ। আর এই কারণেই ইডির তলবে তিনি সাড়া দিচ্ছেন না বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।