পৈতৃক বাড়িতেই মিউজিয়াম বানিয়েছেন তরুণী
শেষ আপডেট: 28 February 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেদের সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে বড়সড় কাণ্ড ঘটালেন এক তরুণী। বর্তমান কর্মব্যস্ত সময়ে যেখানে সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং, সেখানে নিজেদের সম্প্রদায়ের সৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখতেই এমন উদ্যোগ। বই বা কাচের আড়ালে নয়, ঘরের দেওয়ালের প্রতিটি কোনায় উঠে এসেছে অজানা সব গল্প।
পশ্চিম অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) বাসিন্দা মোনপা সম্প্রদায়ের ২৪ বছর বয়সি লেইকে চোমু তাঁর ২০০ বছরের পুরনো পৈতৃক বাড়িটিকে (Ancestral House) একটি জীবন্ত মিউজিয়ামে (Museum) পরিণত করেছেন। বাড়িটি দেখলেই তাক লাগতে বাধ্য। যেটি প্রাচীন মনপা কৌশল ব্যবহার করে কাদা ও পাথর দিয়েই তৈরি হয়েছে।
এটিকে শুধুমাত্র মিউজিয়াম নয়, ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী বলা চলে। যুগ যুগ আগের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতেই এমন প্রচেষ্টা তরুণীর।
তবে তরুণী নিজের বাড়ি রাতারাতি মিউজিয়ামে পরিণত করার ধারণা পেয়েছিল WWF ইন্ডিয়ার থেকেই। তারাই মোনপা সম্প্রদায়ের অনন্য ঐতিহ্য রক্ষায় মিউজিয়াম বানানোর কথা জানায়। পরে সংস্থা না এগোলেও বিষয়টি মনে বসে যায় তরুণীর। তারপর যেমন ভাবনা তেমন কাজ।
পৈতৃক বাড়ি পুনরুদ্ধার করা থেকে শুরু করে সমস্ত নিদর্শন সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য এটিকে একেবারে সহজলভ্য করে তুলতে সঠিক জায়গা নির্ধারণ করা, পুরো বিষয়টিই নিজে সামলেছেন তিনি। চোমু জানান, "এটা আমার পরিবারের উত্তরাধিকার। এটা সাধারণ বাড়ি নয়, ইতিহাসের সাক্ষী।"
আর পাঁচটা মিউজিয়াম যেমন হয়, এটা একেবারেই তেমন নয়। বাড়িটিকে সংরক্ষণ করে মোনপা সম্প্রদায়ের স্থাপত্য। জীবনধারা ও ঐতিহ্যকেই তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে প্রাচীন নিদর্শন যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে সেই সময়ের অনেক অজানা তথ্য। ইতিমধ্যে বহু দর্শনার্থী সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। রাতারাতি সেটি একটি দ্রষ্টব্য স্থান হয়ে উঠেছে বলে দাবি তরুণীর।
২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে মিউজিয়ামটি চালু হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পর্যটকরা বাড়িতে এসে মোনপা ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারে মিশে যেতে পারেন।
পশ্চিম কামেং জেলার দিরাং-এর চুগ ভ্যালির বাসিন্দা চোমু কৃষিতে বিএসসি করেছেন। যার জেরেই ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি তাঁর আবেগ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। তিনি জানান, ২০০ বছরের পুরনো একটি বাড়িকে পুনরুদ্ধার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা, একেবারেই সহজ ছিল না। তবে আগামীদিনে কীভাবে মিউজিয়াম টিকে থাকবে তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তরুণী।
এখন পর্যন্ত, এই প্রকল্পের জন্য সরকারের থেকে কোনও আর্থিক সাহায্য না পেলেও তাঁর আশা খুব শীঘ্রই সরকার ওই ঐতিহ্যের গুরুত্ব স্বীকার করবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে। যদিও মিউজিয়াম তৈরির সময় WWF ইন্ডিয়া থেকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছিল।
মিউজিয়ামটিতে লাইব্রেরি, একে অপরের সঙ্গে কথা বলার আলাদা জায়গা, বিশ্রামাগার-সহ সমস্তকিছুই রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের হাতের তৈরি বিভিন্ন জিনিস সেখানে বিক্রি হয়। যা থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।