বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে (BJP ruled states) জোরকদমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi infiltrator) ধরার অভিযান চলছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 June 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে (BJP ruled states) জোরকদমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi infiltrator) ধরার অভিযান চলছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযান শেষ হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত প্রায় দু-হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক (Push back) বা ঠেলে পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া অনুপ্রবেশকারীদের প্রায় অর্ধেকই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Indian PM Narendra Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah, Home Minister of India) রাজ্য গুজরাতের (Gijrat) বসবাস করছিল। তালিকায় রয়েছে হরিয়ানা (Haryana), দিল্লি (Delhi), রাজস্থান (rajasthan), মহারাষ্ট্র (Maharastra), ওড়িশা (Odisha), অসম (Asam)। এই সব রাজ্যেই এখন বিজেপির সরকার।
গত মাসের শেষ দিকে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সব রাজ্যরে চিঠি দিয়ে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে নির্দেশ পাঠায়। এক মাস অর্থাৎ ৩০ জুনের মধ্যে সেই কাজ শেষ করতে বলা হয়। সন্দেহজনক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষকে চিহ্নিত করার পর কাগজপত্র দ্রুত খতিয়ে দেখার পর অনুপ্রবেশকারীদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বাকি রাজ্যগুলি কী পদক্ষেপ করেছে তা জানা যায়নি। যদিও অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়েও অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পুশ ব্যাক করা হচ্ছে। গুজরাতের আমদাবাদ (Ahmedabad), বরোদা (Vadodara), সুরাত (Surat) থেকে ধৃতদের বসিরহাটের অপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা (Satkhira district) দিয়ে পুশ ব্যাক করা হয়। বাংলাদেশের সিলেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত দিয়েও বহু বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ভারতের পুশ ব্যাক নিয়ে দেশেও আপত্তি উঠেছে। নিয়ম হল, অনুপ্রবেশকারী হিসাবে কাউকে গ্রেফতার করা হলে আদালতে তুলতে হবে। আদালতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণের আইনি সুবিধা প্রাপ্য। কিন্তু চলতি অভিযানে সেই আইনি পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে না বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি। সীমান্ত সমস্যা ও সন্ত্রাস নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠনের তরফে আইনভঙ্গের বিষয়টি ভারত সরকারের নজরে আনা হয়েছে। সিপিএম পলিটব্যুরোও আইনি পথ এড়িয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাক করা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তাদের বক্তব্য, অমানবিক উপায় অবলন্বন করছে ভারত সরকার।
আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশ সরকারও। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে পুশ ব্যাক শুরুর পর বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী—বিজিবি গোড়ায় বাধা দেয়নি। পরে তারা নথিপত্র যাচাই করে বেশ কয়েকজনকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেছে। বিএসএফের পুশ ব্যাকেও বাধা দিচ্ছে বিজিবি। বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিএসএফ কাউকে ঠেলে পাঠতে চাইলে যেন মসজিদের মাইক থেকে প্রচার করে সবাইকে সজাগ করে দেওয়া হয়। সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তে বিএসএফের পুশ ব্যাক বাধার মুখে পড়েছে। বিজিবির বাধায় নো-ম্যানস ল্যান্ডেও আটকে থাকতে হয় বহু মানুষকে। যদিও সরকারিভাবে বিএসএফ পুশ ব্যাক নিয়ে কোনও কথা বলছে না।