ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 February 2025 21:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৭ বছর পর পর দিল্লিবাসীর দিল জিতেছে বিজেপি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা টেনেটুনে জিতলেও তিন-তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল হোক বা মণীশ সিসোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন; খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে সকলেই। রাজধানী শহরে আম আদমি পার্টির ভরাডুবি হতেই চিন্তা বাড়ছে পড়শি রাজ্য পঞ্জাবের। সেখানকার আপ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের নাকি বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। শনিবার ভোটের ফলাফলের ছবিটা পরিষ্কার হতেই বিস্ফোরক কংগ্রেস নেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া।
দিল্লির বিধানসভা আপের হাতছাড়া হতেই এবার পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। শনিবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পঞ্জাবের কংগ্রেস বিধায়কের সাফ অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মান। বিজেপিতে যাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। পাশাপাশি আম আদমি পার্টির ধ্বংসের শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে তিনি আরও জানান, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডের মতো দিল্লিতে গিয়ে শীঘ্রই একটি কোর্স নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, দিল্লি ভোটে আম আদমি পার্টির পরাজয়ের কারণ হিসাবে কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, কংগ্রেস ভোট কেটে বিজেপির হাত শক্ত করেছে। যদিও ইন্ডিয়া জোটের শরিক হিসাবে হাতে হাত রেখে চলার কথা থাকলেও দিল্লি বিধানসভা ভোটের আগে গাজোয়ারি করে একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেয় রাহুল গান্ধীর দল। তার ফল মেলে হাতেনাতে।
যদিও ফলাফলের ট্রেন্ড সকাল থেকে স্পষ্ট হওয়ার পর নিজের নাক কেটে আপের যাত্রা ভঙ্গ করার জন্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। তারপরই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর বিজেপিতে যোগদানের ধোঁয়া তুলে রীতিমতো নয়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পঞ্জাবের কংগ্রেস সাংসদ বাজওয়া। তাঁর মত, এই ফলাফলই ভাল হয়েছে। শুধু পঞ্জাব নয়, সাড়া দেশের জন্য এটা শুভ। এরপরই প্রাক্তন সাংসদ অভিযোগ করেন, ভগবন্ত মান এমন একজন মানুষ যিনি কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি কংগ্রেস নেতা। তিনি কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, এটা কেজরিওয়ালের মাস্টারপ্ল্যান। দিল্লিতে হেরে এবার পঞ্জাবের দিকে নজর দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, শীঘ্রই তিনি এখানে আসবেন। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, লুধিয়ানায় কংগ্রেসের একজন বিধায়ক সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন। সে কারণে ওই আসনটি খালি হয়েছে। সেখানে উপনির্বাচনে লড়ে পঞ্জাবেই ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে আপ আহ্বায়কের।
কংগ্রেস নেতা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তিনি এর আগেও যা যা বলেছেন সব সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। বাজওয়া বলেন, আমিই প্রথম জানিয়েছিলাম পঞ্জাবের বিধানসভা ভোটে আমরা আপের সাহায্য ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। পঞ্জাবে আমরা সঠিক প্রমাণিত হয়েছি। যদি আমরা সংসদ নির্বাচনে জোট না করতাম, তাহলে কংগ্রেস আরও অনেক ভাল ফল করত। ৭০ বিধানসভা আসনের দিল্লি বিধানসভার ম্যাজিক ফিগার ৩৬। তাঁর মধ্যে বিজেপির ৪৮ ও আম আদমি পার্টির ঝুলিতে ২২ আসন গেলেও কংগ্রেসের শিকে ছেঁড়েনি। লজ্জাজনক হারের পর কংগ্রেস নেতা এমন মন্তব্য করলেন কী না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস ও আপ দুই দলই বিজেপি বিরোধী। অথচ দুই দল, দুই দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত থেকেছে। মাঝখান থেকে ফায়দা তুলে বেরিয়ে গেছে বিজেপি। শেষবার, কংগ্রেস দিল্লির ভোটে আসন পেয়েছিল ২০১৩ সালের ভোটে। সেবার ৮টি আসন জিতেছিল তারা। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েই দিল্লিতে প্রথমবার সরকার গঠন করেছিল আম আদমি পার্টি। তারপর ক্রমেই হাত আর আপের দূরত্ব বেড়েছে। এরপর ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, আপ ৬৭টি আসন, বিজেপি ৩টি আসন পেয়েছিল। আর কংগ্রেসের শূন্য পাওয়ার সেই শুরু। এরপর ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস শূন্য আসন পায়।