.webp)
শেষ আপডেট: 18 December 2023 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা প্রত্যাহার করে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রের সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতের সংবিধান বেঞ্চে। চার বছর বাদে সোমবার ওই মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে সামিল হওয়ার পর তার আর সার্বভৌমত্ব ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট এও জানিয়ে দিয়েছে, উপত্যকায় সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রয়োগ করে যে ব্যবস্থা ছিল তা একেবারেই অস্থায়ী। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল না।
চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এদিন যা বলেছে—
• যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জম্মু ও কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল। তা ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল না।
• ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্য রাজ্যের তুলনায় জম্মু ও কাশ্মীরের পৃথক সার্বভৌমত্ব নেই। এই প্রশ্ন উঠেছে যে, ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে সামিল হওয়ার পরেও জম্মু ও কাশ্মীরের সার্বভৌমত্ব ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, না ছিল না।
• জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা থাকবে কি থাকবে না সে ব্যাপারে দেশের রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট কোনও আবেদন নিয়ে শুনানি চালাতে পারে না।
• সংবিধানের ৩৭০ (১)(ডি) ধারা প্রয়োগ করে ভারতের সংবিধানের সমস্ত ধারা জম্মু ও কাশ্মীরে প্রয়োগ করা যাবে। এ ব্যাপারে দেশের রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা বহাল থাকবে। প্রসঙ্গত, এর আগে জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বহাল থাকায় ভারতীয় সংবিধানের সব ধারা সেখানে প্রয়োগ করা যেত না।
• জম্মু কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের জন্য সব রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল না।
• জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ২০১৯ সালের ৩১শে অক্টোবর রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্র। কিন্তু লেফটেন্যান্ট গভর্নর বা উপরাজ্যপালের মাধ্যমে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রশাসন চালাচ্ছিল দিল্লি।
• সংবিধানের ৩৫৬ ধারা মোতাবেক জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে, সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করা হলে কেন্দ্রকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সব সিদ্ধান্তকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। জম্মু-কাশ্মীরে ৯ মাসের মধ্যে ভোট করাতে হবে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভোট করাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে পৃথক করে সেটিকে একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংসদে সেই প্রস্তাব দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে পাশ করানোর পর রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দিয়েছেন। এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, লাদাখকে পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসাবে গড়ে তোলার পদক্ষেপও ছিল বৈধ।