
শেষ আপডেট: 2 October 2023 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রত্যন্ত অঞ্চলেও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে টেলি-মেডিসিন (State Telemedicine) পরিষেবা শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। মাত্র এক বছরে রাজ্য টেলি-মেডিসিন পরিষেবা দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। এবার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল চালু করল টেলি-মেডিসিন পরিষেবা। অ্যাপোলোর টেসি হেলথে খুব তাড়াতাড়ি অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ পাচ্ছেন রোগীরা। চিকিৎসাও শুরু হচ্ছে দ্রুত।
হিমাচল প্রদেশে ইতিমধ্যেই টেলিহেলথ ইউনিট খুলেছে অ্যাপোলো। সম্প্রতি বছর চারেকের একটি শিশুকে আনা হয়েছিল টেলিহেলথ ইউনিটে। শিশুটির মুখে গভীর ক্ষত ছিল। চেন্নাইয়ের একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে রোগীর পরিবারের কথা বলিয়ে দেন অ্যাপোলোর ডাক্তাররা। টেলিহেলথে সেই অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবু রোগের কারণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি বলে দেন। কোন অ্যান্টিবায়োটিকে রোগ সারবে তা বুঝিয়ে দেন। চেন্নাইয়ের ডাক্তারের সঙ্গে টেলিহেলথে যোগাযোগ রেখেই শিশুটির চিকিৎসা হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে বাচ্চাটি।
২০০ সদস্যের টিম নিয়ে অ্যাপোলোর টেলিহেলথ পরিষেবা চালু হয়েছে। শুধু তাই নয় এই ইউনিটে টেলি-ইমার্জেন্সি, টেলি-রেডিওলজি ও টেলি-অপথ্যালমোলজির চিকিৎসাও হচ্ছে। উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে যে কোনও জটিল রোগের ক্ষেত্রেও টেলি-মেডিসিন ইউনিট চালু করেছে অ্যাপোলো। এখনও অবধি ত্রিপুরা, হিমাচল প্রদেশ-সহ অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে টেলি-ইমার্জেন্সি ইউনিটে অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা হয়েছে। সঙ্কটাপন্ন অনেক রোগীই টেলি-ইমার্জেন্সি ইউনিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশের নানা প্রান্তের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ পেয়েছেন।
করোনা মহামারী শুরুর পর অধিকাংশ চিকিৎসক ব্যক্তিগত চেম্বার বন্ধ করে দেন এবং হাসপাতালেও চাপ ক্রমাগত বাড়ছিল। সংক্রমণের হারও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সে সময় টেলি-মেডিসিনের মাধ্যমে ঘরে বসেই বহু রোগী চিকিৎসা পান। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই পরবর্তী সময়ে টেলি-মেডিসিন পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করা হয়। এখন এই প্রকল্পই বহুজনের প্রাণ বাঁচাচ্ছে।
এই টেলিহেলথ কতটা কার্যকরী হচ্ছে তা জানিয়েছে অ্যাপোলো। একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাপোলো জানিয়েছে, ত্রিপুরার খুমুলওয়াং গ্রামের ৯০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। খেরেংবার হাসপাতালের টেলি-ইমার্জেন্সি সেন্টারে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সুদূর পশ্চিম ত্রিপুরার হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে টেলি-ইমার্জেন্সিতে যোগাযোগ করেন। অ্যাপোলোর সমস্ত ডিজিটাল সিস্টেমগুলো চালু করা হয়। সেখানে রোগীর অবস্থা কেমন তা ভাল করে পর্যবেক্ষণ করেন অ্যাপোলোর ডাক্তাররা। কী ধরনের ওষুধ দিতে হবে, কেমন চিকিৎসা হবে তা সবিস্তারে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। টেলি-ইমার্জেন্সি চালু রেখেই বৃদ্ধার চিকিৎসা করেন খেরেংবার হাসপাতালের ডাক্তাররা। তাড়াতাড়িই স্থিতিশীল হন সেই বৃদ্ধা। এখনও অবধি দেশজুড়ে টেলি-ইমার্জেন্সিতে প্রায় তিন হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছে অ্যাপোলো।