
শেষ আপডেট: 11 December 2023 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জানুয়ারি মাসে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু উদ্বোধন করা নয়, মন্দিরে রাম লালার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পুজোয় পৈতে পরে পৌরোহিত্যও করবেন তিনি। তার ঠিক এক মাস আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চ জানিয়ে দিল, জম্মু কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ ধারার প্রয়োগ বাতিল করা ছিল বৈধ পদক্ষেপ। কারণ, ৩৭০ ধারা কোনও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঘোষণা হতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন টুইট করে বলেন, “৩৭০ ধারা বাতিল করা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঐতিহাসিক। ... এই রায় শুধু আইনি কোনও বিষয় নয়, এটা একটা আশার আলো। ভারতকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও মজবুত করে গড়ে তুলতে এই রায় আমাদের উজ্জীবিত করছে এবং এক উজ্জ্বল ভারতের পথ দেখাচ্ছে।”
অনেকের মতে, সন্দেহাতীত ভাবেই সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদের আবেগ আরও উস্কে দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বোঝাতে চেয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ ও মজবুত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি যে সঠিক পদক্ষেপ করেছিলেন, তা সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়েও প্রমাণিত হল।
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের বহু পুরনো দাবি ছিল। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম স্লোগানই ছিল, এক দেশে এক বিধান, এক নিশান ও এক প্রধানই থাকবে। পৃথক বিধি থাকতে পারে না উপত্যকায়।
কেন্দ্রে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার ছিল ২৩ শরিক দলের উপর নির্ভরশীল। তাই তখন বিজেপির এ ব্যাপারে আগ্রহ থাকলেও উপায় ছিল না। কিন্তু কেন্দ্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেই শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নপূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
Today's Supreme Court verdict on the abrogation of Article 370 is historic and constitutionally upholds the decision taken by the Parliament of India on 5th August 2019; it is a resounding declaration of hope, progress and unity for our sisters and brothers in Jammu, Kashmir and…
— Narendra Modi (@narendramodi) December 11, 2023
এ ব্যাপারে তখনই তামাম বিতর্ক সাঙ্গ হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেই পুরনো কাসুন্দি থেকেই নতুন গন্ধ বেরোতে শুরু করল। যা উজ্জীবিত করে তুলল বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারকে। তাঁদের মতে, লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার তাঁদের মতাদর্শগত দুটি বিষয়কেই লোকসভা ভোটের আগে তাজা ও সতেজ ভাবে পেয়ে গেল—এক, রাম মন্দির ও দুই, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার।
কেন্দ্রে পাঁচ বছর জোট সরকার চালানোর পর ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ভোটে গিয়েছিলেন উন্নয়নের সাফল্যকে প্রচারের হাতিয়ার করে। তাঁর ভোট স্লোগান ছিল ‘ভারত উদয়’ তথা ‘ইন্ডিয়া শাইনিং’। কারণ, স্বর্ণালী চতুর্ভূজ, দ্রুত গতির ট্রেন ইত্যাদি সহ বাজপেয়ী দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছিলেন। তাঁর সময়ে নতুন উপনগরী গড়ে ওঠা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় প্রভূত অগ্রগতির মতো ঘটনা ঘটেছিল।
মোদী জমানায় সুনির্দিষ্ট ভাবে তেমন সাফল্যের খতিয়ান কম। মাঝে দু’বছর কোভিডের কোপ তার বড় কারণ। এই অবস্থায় মোদী ‘বিকশিত ভারতের’ যে স্লোগান তুলেছেন, তা আচ্ছে দিনের মতো এক স্বপ্ন ফিরি। বাস্তব অবস্থার উপর দাঁড়িয়ে সাফল্য দাবি করা তা নয়। বরং অনেক বেশি হিন্দুত্বের বিষয়আশয়ের উপর ভরসা করতে দেখা যাচ্ছে তাঁর দল ও সরকারকে। সেদিক থেকে রাম মন্দিরের পর সোমবার থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গও ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে গেল। সম্ভবত সেই কারণেই উচ্ছ্বাসের স্রোত বইছে বিজেপিতে।