
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ও শ্যামদাস প্রভু।
শেষ আপডেট: 30 November 2024 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের ইসকনের আর একজন সাধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থার একটি কেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ এনেছেন কলকাতার মুখপাত্র রাধারমন দাস। তিনি জানান, শ্যামদাস প্রভু নামে ওই তরুণ সন্ন্যাসী জেলে চিন্ময়কৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখনই কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এক্সবার্তায় রাধারমন দাস লিখেছেন, আজ চট্টগ্রাম পুলিশ শ্যামদাস প্রভু নামে আরেকজন ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করেছে কোনও পরোয়ানা ছাড়াই। তিনি আরও লিখেছেন, তাঁকে দেখতে কি জঙ্গিদের মতো? নিরীহ ব্রহ্মচারীদের এভাবে গ্রেফতার করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও বিরক্তিকর। ফ্রিইসকনমঙ্কস বাংলাদেশ নামে হ্যাশট্যাগ দিয়ে তিনি এই পোস্ট করেন। একইসঙ্গে ভৈরবে অবস্থিত আরও একটি ইসকনের কেন্দ্রে ভাঙচুরের ভিডিও পোস্ট করেছেন রাধারমন। যেখানে ক্যাপশনে লেখা আছে, কোনও বিরাম চোখে পড়ছে না।
এদিকে, বাংলাদেশে আপামর হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা-আইনি পদক্ষেপের প্রতিবাদে আগামিকাল, ১ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রার্থনা, কীর্তন, ধর্মসভা করতে চলেছে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাশনেস (ISKCON) শনিবার সকালে ইসকনের কলকাতা কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র রাধারমন দাস এক এক্সবার্তায় একথা লিখেছেন।
ইসকনের তরফে বলা হয়েছে, ১৫০টিরও বেশি দেশের অগুনতি শহরে লক্ষ লক্ষ ইসকন ভক্ত এই প্রার্থনায় যোগ দেবেন। রবিবার, ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা চেয়ে এই বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে। রাধারমন দাস লিখেছেন ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সকলে আসুন, আপনার স্থানীয় ইসকন মন্দিরে অথবা ধর্মসভায় হাজির হয়ে এই সম্মিলিত সংকীর্তনে যোগ দিন।
এদিকে, শুক্রবার চট্টগ্রামে তিনটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর চালানোর পর থেকে ওই এলাকা থেকে দলে দলে হিন্দুরা ঘর ছেড়েছেন। তাঁদের অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছেন। মন্দির ছাড়াও এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, জামাত-ই-ইসলামি ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির মিছিল থেকে হামলা চালানো হয়েছিল। ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সেই মিছিল বের করা হয়। মিছিলের সঙ্গে পুলিশ কিংবা সেনার কেউ ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, এই এলাকার বাসিন্দাদের প্রায় ৯০ শতাংশ হিন্দু। হিংসা-অশান্তির পর তাঁদের অনেকেই প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন।