
শেষ আপডেট: 26 December 2023 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে ধারণাই সব। ইদানীং একটা শব্দ বাংলার রাজনীতিতেও খুব চলছে, তা হল ‘ন্যারেটিভ’। তার মানেও ওই একই। এবং অনেকের মতে, সেই ধারণা তৈরির খেলায় বিজেপির মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে আর কেউ পারেনি। বিজেপির ‘আইটি সেল’ বলতেই একটা প্রচার যন্ত্র তথা প্রোপাগান্ডা মেশিনারির ছবি যেন ভেসে ওঠে।
বড়দিনের রাতে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দলের সভাপতি জেপি নাড্ডা। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় পাঠাগারে দলের আইটি সেলের কর্মীদের তাঁরা ২ ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, প্রায় দেড় হাজার আইটি কর্মীকে তাঁরা পাখি পড়ানোর মতো করে পড়ানোর চেষ্টা করেন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় কী কী বেশি করে পোস্ট করতে হবে এবং কেন করতে হবে।
বিজেপির সর্বভারতীয় কমিউনিকেশন সেলের মাথায় রয়েছেন অমিত মালব্য। তিনি আবার পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনেরও পর্যবেক্ষক। সাধারণত রাজ্য ওয়াড়ি আইটি সেলের কর্মীরা প্রচারে কী কী বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে তা নিয়ে সর্বভারতীয় সংগঠনেরও ইনপুট থাকে। সেদিক থেকে লোকসভা ভোটের আগে কয়েকটি বিষয় এখন জাতীয় স্তরে মুখ্য হয়ে উঠছে। তার অন্যতম হলে রাম মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
সম্প্রতি সংসদে পাশ হয়েছে ন্যায় সংহিতা বিল। এ ব্যাপারে মানুষের কাছে কী তুলে ধরতে হবে তাও এদিনের বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তাঁর দাবি, “ব্রিটিশরা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও এতদিন ইংরেজদের আইনেই দেশ চলছিল। এই প্রথমবার সংবিধান অনুযা্য়ী আইন হচ্ছে। দাসত্বের চিহ্ন শেষ করতে চাইছেন মোদী।”
সূত্রের খবর, বিজেপির আইটি সেলের কর্মীদের অমিত শাহ বলেছেন,“মন খোলা রাখলে বুঝতে পারবে, মন ইডলির মতো শক্ত হলে কিছুই বুঝতে পারবে না। এটা ভাষার সমস্যা নয়, মনের সমস্যা।”
শাহ এও বলেছেন, “বিজেপি ব্যক্তির জায়গায় দেশকে রাখছি। দেশের ক্ষতি কেউ করতে চাইলে তাকে বরদাস্ত নয়। সেজন্যই জঙ্গি আইন কঠোরতর করা হচ্ছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেছেন, “মোদী সরকার যা বলে তা করে দেখায়। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংসদে মহিলাদের ৪৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ সুনিশ্চিত হয়েছে। তিন তালাকও নিষিদ্ধ করেছে মোদী সরকার।”
বৈঠক শেষে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কর্মীদের জন্য এরকম একটা কর্মশালা খুব জরুরি ছিল। আমাদের আইটি সেলের কর্মীরা অনেক কিছু শিখলেন, বুঝলেনও।”