
অমিত শাহ।
শেষ আপডেট: 29 November 2024 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ দমনে আরও কঠোর অবস্থান নিতে একটি জাতীয় নীতি ও কৌশল রচনা করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতমাসে তাঁর মন্ত্রকের এমন উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। সরকারি সূত্রের খবর, সংসদের চলতি অধিবেশনে অভিন্ন নীতি ও কৌশল সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পেশ করা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, উগ্রবাদী সংগঠনগুলির বিষয়ে দেশের সব রাজ্য অভিন্ন অবস্থান নেবে। কেন্দ্রীয় সরকার কোনও সংগঠনতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে সেই আদেশ বলবৎ হবে সারা দেশে। একইভাবে রাজ্য সরকারগুলি কোনও সংগঠনকে দেশবিরোধী বলে ঘোষণা করলে অন্য রাজ্যও সেই সংগঠনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে।
জাতীয় নীতিতে জঙ্গি দমনে প্রতিটি রাজ্যে দক্ষতা সম্পন্ন বিশেষ বাহিনী গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে রাজ্যে বিশেষ জঙ্গি দমন পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী থাকলেও শাহের মন্ত্রক মনে করছে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম দরকার। সে জন্য আধুনিক হাতিয়ার সরবরাহের পাশাপাশি রাজ্যের বাহিনীকে জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হবে, যাতে সব রাজ্যের বাহিনী সমান দক্ষ হতে পারে।
শাহের মন্ত্রকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বিরোধী দলের সাংসদদের কারও কারও আশঙ্কা এতে রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ারের বিষয়। যদিও আগের ইউপিএ সরকারই জঙ্গি কার্যকলামকে আইন-শৃঙ্খলার আর পাঁচটা ঘটনার থেকে আলাদা করে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাতে অবশ্য রাজ্যগুলি সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ রাজ্যের তদন্তাধীন বিষয়ে ঢুতে পড়ায় অনেক রাজ্য সরকারই বিরক্ত। বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জঙ্গি দমনের নতুন বাহিনীর জন্য প্রতিটি ব্যাটেলিয়নে মৌলবাদ, জঙ্গি নাশকতা, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের বিষয়ে বিশেষ পঠনপাঠনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা শাখা থাকবে। এছাড়া, প্রিজন, ফিন্যান্সিয়াল এবং আইটি সেল থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গি নাশকতার পরিকল্পনা তৈরির একটি বড় জায়গা হল কারাগার। সেখানেও দলে নতুন নিয়োগের প্রাথমিক কাজ করে থাকে জঙ্গি সংগঠনগুলি। ফলে কারাগারের দিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি। এখন অন্যান্য বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে থাকে জঙ্গি দমন পুলিশ। তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা শাখা নেই।
একইভাবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অভিজ্ঞ অফিসারদের বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়েও পৃথক ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে জাতীয় নীতির খসড়ায়।