
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 September 2024 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি কে হেমা কমিটির রিপোর্টে মালয়ালম ফিল্ম জগতে মহিলাদের নিগ্রহ এবং বৈষম্যের কথা উঠে এসেছে। সম্প্রতি সেই প্রেক্ষিতে দায় স্বীকার করে নিয়ে 'অ্যাসোসিয়েশন অফ মালায়ালম মুভি আর্টিস্টস' (এএমএমএ)-র সভাপতি হিসেবে পদত্যাগ করেছেন তারকা মোহনলাল।
হেমা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত ধস নামে দক্ষিণী বিনোদন দুনিয়ায়। সামনে উঠে আসে একের পর এক ঘটনা। যার মধ্যে জনপ্রিয় মালায়লম অভিনেত্রী অভিযোগও রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, একজন তামিল ডিরেক্টর তাঁকে মানসিক অত্যাচারের পাশাপাশি যৌন হেনস্থা করে। গোপনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি।
একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিষয়টি নিয়ে। নাম না করে জানান, একজন নামী পরিচালক তাঁকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করেছে। যখন তাঁর বয়স ১৮ ছিল, তখন ওই ব্যক্তি তাঁকে মেয়ে সম্মোধন করে তাঁর থেকেই সন্তান চেয়েছিল।
নাম জানতে চাইলে তিনি জানান, কেরল পুলিশের তরফে যে বিশেষ টিম করা হয়েছে, তাদের কাছে নাম জানাবেন তিনি। তিনি বলেন, 'তখন ১৮ বছরের ছিলাম, কলেজের প্রথম বর্ষে... আমি এমন একটা পরিবার থেকে উঠে এসেছিলাম যেখানে বাবা-মা কেউই সিনেমা বা এই জগৎ সম্পর্কে খুব বেশি জানতেন না। কলেজে থিয়েটার করার সুবাদে এই তামিল পরিচালকের সঙ্গো যোগাযোগ হয়। অভিনেত্রী রেবতী আমার বাড়ির কাছেই থাকতেন। তাঁকে দেখেই এই জগতে আসার ইচ্ছে তৈরি হয় ছোটোবেলায়। খোঁজ পেয়েই আমি পৌঁছে যাই অডিশন দিতে। সেখানে পরিচালক ও তাঁর স্ত্রী দু'জনেই ছিলেন। আমার বয়স কম ছিল, খুব বেশি কিছুই জানতাম না।'
প্রথম দেখাতেই পরিচালককে খুব একটা পছন্দ হয়নি তাঁর। বাড়িতে এসে সেকথা জানানও। কিন্তু ওই পরিচালক সুচারুভাবে তাঁর বাবাকে বলেন, মেয়ের স্ক্রিন টেস্টে অনেক খরচ হয়েছে। পরে তিনিও সিনেমায় কাজ পাবেন বলে রাজি হয়ে যান।
তিনি আরও জানান, যে কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল চুক্তির সময়, তাতে ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর স্ত্রীর নাম লেখা ছিল। শুটিংয়ের প্রথমদিনে ওই ব্যক্তি কথাও বলেননি সেভাবে। পরে আমি তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যাই। উনি রাগ দেখাতে থাকেন। বলেন, 'যেহেতু আমরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বড় হয়েছি তাই ছেলেদের এই রাগ দেখানোটা খুব সাধারণভাবেই অনেকসময় মেনে নিই।'
কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন অভিনেত্রী। জানান, মেয়ে সম্বোধন করে তাঁর গ্রুম করেছিল ওই পরিচালক। কারণ নিজের মেয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে চলে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, 'ওরা আমাকে মিথ্যা বলেছিল। তারপরই ভাল ভাল কথা বলতে শুরু করে। ভাল ভাল খাওয়াতে শুরু করে। আর শুরু হয় ধর্ষণ। আমি চেয়েও লজ্জায় একথা বন্ধুদের বা অন্য কাউকে বলতে পারিনি। বিষয়টা বাড়তে থাকে দিন দিন। তিনি আমাকে ব্যবহার করেন পুরোপুরি। আমার মাথা খারাপ করে দিয়েছিল লোকটা।'
এই যন্ত্রণা, ভয়, আতঙ্ক থেকে বেরোতে প্রায় ৩০ বছর সময় লেগেছিল বলে জানান অভিনেত্রী।