
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 March 2025 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণের চেষ্টার 'সংজ্ঞা' নির্ধারণে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায় নিয়ে তোলপাড় দেশ। এলাহাবাদ হাইকোর্ট একটি বিতর্কিত পর্যবেক্ষণে ধর্ষণ কাকে বলে, এ জাতীয় এক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যা বলেছে তা নিয়ে খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী এবং অনেকেই বিচারপতির মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন। অনেকেই বিচারবিভাগীয় সংস্কারের দাবি তুলেছেন।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, আমি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না। আমি চাই সুপ্রিম কোর্ট এই বিচারের চূড়ান্ত ফয়সালা করুক। হাইকোর্টের রায় সমাজের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে তিনি দাবি করেন। অন্নপূর্ণা ছাড়াও রাজ্যসভা সদস্য স্বাতী মালিওয়াল তথা দিল্লির প্রাক্তন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনও আদালতের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
স্বাতীর মতে, কারও স্তনে হাত দেওয়া কিংবা পাজামার দড়ি ছিঁড়ে ফেলা ধর্ষণের চেষ্টা নয়...এ ধরনের কথাবার্তা ভীষণ পীড়াদায়ক মর্মস্পর্শী। সমাজের পক্ষে এটা ভয়ঙ্কর। সুপ্রিম কোর্টের উচিত এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করা। বিজেপি সদস্য সিটি পল্লবী এদিন সকালে এক্সবার্তায় লিখেছেন, ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার আরেকটি রত্নবিশেষ? নির্যাতিতার বুকে হাত দেওয়া, পাজামার দড়ি ছিঁড়ে দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টা নয়, বলেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
তিনি আরও লিখেছেন, মেয়েটির বয়স ১১ বছর। এরকম রায় হলে কী দরকার আছে পকসো এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কঠিনতর আইনের? ছত্তীসগড় হাইকোর্টের একটি রায়ের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন তিনি। যেখানে স্বামীর অস্বাভাবিক যৌনকাজের জন্য স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। এবং হাইকোর্ট স্বামীকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছিল। এ ধরনের ইস্যু সমাধানের জন্য বিচার বিভাগীয় সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে তিনি দাবি জানিয়েছেন। প্রখ্যাত আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংও এক্সে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্টের উচিত স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করা।