
লিভ ইন নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
শেষ আপডেট: 11 April 2025 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে না করেও দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস করছেন ভিন্নধর্মী এক দম্পতি। একটি মেয়েও হয়েছে তাঁদের। সম্প্রতি ওই মহিলার প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ি তাঁদের মেয়েকে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ। এর পরেই ওই পরিবারকে পুলিশ সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মন্তব্য করেছে, 'একসঙ্গে থাকার জন্য বিয়ে করা জরুরি নয়, আইনত প্রাপ্তবয়স্ক হলেই যথেষ্ট।'
এই মামলার সূত্রপাত ওই দম্পতির নাবালিকা মেয়ের আবেদনের মাধ্যমে। সে তার মায়ের প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছে বে অভিযোগ করেছে।
সূত্রের খবর, মেয়েটির মা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পরে, ২০১৮ সাল থেকে, অন্য ধর্মের এক ব্যক্তির সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। ওই ব্যক্তিই তাঁর সন্তানের পিতা। কিন্তু এই সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর থেকেই প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে হুমকি আসতে শুরু করে।
আদালতের বিচারপতি শেখর বি শরাফ ও বিচারপতি বিপিন চন্দ্র দীক্ষিতের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, যদি কোনও ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েও একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্টের বেশ কিছু রায়কে উদ্ধৃত করে এই মত দেয় আদালত।
আদালত আরও জানায়, ওই নাবালিকা মেয়ের মা-বাবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী এবং তাঁরা ২০১৮ সাল থেকে একসঙ্গে থাকছেন। তাঁদের দাবি, মেয়ের মায়ের প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁদের হুমকি দিচ্ছে এবং পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এমনকি, অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা উত্তরপ্রদেশের সম্ভল থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাঁদের অপমানও করে।
এই প্রেক্ষিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, 'যদি অভিভাবকেরা থানায় অভিযোগ জানাতে যান, তাহলে সম্ভলের পুলিশ সুপারকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে যেন এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়।' পাশাপাশি আদালত পুলিশকে এই বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। বলে, 'নাবালিকা কন্যা ও তার মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হোক।'
ধর্ম বা বৈবাহিক অবস্থা যাই হোক না কেন, ভারতীয় সংবিধানের অধীনে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা, জীবনযাপন ও সম্পর্কের অধিকার যেন আরও ভালভাবে রক্ষা করা হল আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এবং পদক্ষেপে।