.webp)
মুসলিম মহিলারা স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ পেতে পারেন জানিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।
শেষ আপডেট: 15 July 2024 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহবিচ্ছিন্না মুসলিম মহিলারাও খোরপোশ পাওয়ার যোগ্য। সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। বিবাহবিচ্ছিন্না হওয়ার পর অপেক্ষার সময়কালে অর্থাৎ 'ইদ্দত' এর সময়ে মুসলিম মহিলারা স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ পেতে পারেন বলে গত বুধবার এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।
সেই রায়কে ইসলামি আইনবিরুদ্ধ ব্যাখ্যা করে রায় প্রত্যাহার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে চলেছে মুসলিম ল বোর্ড। এ ব্যাপারে বোর্ডের সভাপতিকে যাবতীয় সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিয়েছে বোর্ড।
রবিবার ল বোর্ড এক বৈঠকে ঠিক করে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বেঞ্চের দ্বারস্থ হবে। মুসলিম ল বোর্ডের কার্যকরী কমিটি ঠিক করেছে, মুসলিম বিবাহবিচ্ছিন্নাদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা শরিয়ত বিরোধী। তাই তারা এ বিরুদ্ধে যাওয়ার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে ওই বৈঠকে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পয়গম্বর বলেছেন, সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজ হল বিবাহবিচ্ছিন্ন। তাই সমস্তরকম পদক্ষেপ করে এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই হল শ্রেয়। পবিত্র কোরানে এ নিয়ে যা বলা আছে তা পালন করাই উচিত। অর্থাৎ, দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠলে তবেই মানবকল্যাণের জন্য বিচ্ছিন্ন হওয়া যেতে পারে। বোর্ডের মতে, এই রায়ে মুসলিম মহিলারা আরও বিপাকে পড়বেন।
উল্লেখ্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছিন্না মুসলিম মহিলারা আদালতে খোরপোশের দাবি জানাতে পারবেন বলে গত বুধবার, ১০ জুলাই সাফ জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং অগাস্টিন জর্জ ম্যাসির বেঞ্চ এক মুসলিম পুরুষের আর্জি খারিজ করে দেয়। তিনি বিবাহবিচ্ছিন্না স্ত্রীর আনা ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ ধারা মোতাবেক খোরপোশের আবেদনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, আদালত জানিয়ে দেয়, বিবাহবিচ্ছিন্নাদের অধিকার রক্ষা আইন, ১৯৮৬ অনুসারে মুসলিম মহিলাদের ধর্মনিরপেক্ষতার চোখে আলাদা করে দেখা যায় না।
বিচারপতি নাগরত্ন এবং ম্যাসি এ বিষয়ে পৃথক কিন্তু সহমত পোষণ করে রায় দেন। বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, আমরা ফৌজদারি আর্জি খারিজ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ নম্বর ধারা শুধু বিবাহিতাদের ক্ষেত্রেই নয়, সকল মহিলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বেঞ্চ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ নম্বর ধারায় যদি কোনও মুসলিম মহিলার বিবাহবিচ্ছিন্নের আর্জির শুনানি পড়ে থাকে তাহলে তিনি খোরপোশ পেতে পারেন। মুসলিম মহিলা (বিবাহ অধিকার রক্ষা) আইন, ২০১৯-এ এর বন্দোবস্ত আছে।
সম্প্রতি তেলঙ্গানা হাইকোর্ট আবেদনকারী মহম্মদ আবদুস সামাদকে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে মাসে ১০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায় সর্বোচ্চ আদালতেও। এক যুগান্তকারী রায়ে শাহ বানো মামলাতেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, খোরপোশের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলারাও তা পাওয়ার যোগ্য। উল্লেখ্য, আবেদনকারী হাইকোর্টে বলেছিলেন যে, মুসলিম পার্সোনাল ল অনুসারে ২০১৭ সালে তাঁদের ডিভোর্স হয়েছিল। কিন্তু, সেই আর্জি নাকচ করে দিয়ে উচ্চ আদালত জানিয়ে দেয় প্রাক্তন স্ত্রীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে হবে এবং পারিবারিক আদালতকে ৬ মাসের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।