
মেহুল চোকসী (বাঁদিকে) ও নীরব মোদী (ডানদিকে)। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 14 April 2025 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারিতে ফেরার ভারতীয় ব্যবসায়ী মেহুল চোকসী ধরা পড়লেও তাঁর 'সুযোগ্য' ভাগনে নীরব মোদী এখন কোথায়? পিএনবি-র ঋণখেলাপি মামলায় সোমবার ভোরের দিকে বেলজিয়ামে মেহুল চোকসীর গ্রেফতারির খবর পৌঁছালেও এই কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় শিরোমণি নীরব মোদী এখনও অধরাই। নয়াদিল্লির প্রত্যর্পণের অনুরোধে সুইৎজারল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়ার আগেই মেহুলকে গ্রেফতার করে বেলজিয়াম পুলিশ।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক হল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদানকারী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। ২০১৮ সালে তারা আচমকাই ঘোষণা করে যে, ১৩,৫০০ কোটি টাকার একটি বিশাল ঋণখেলাপি প্রতারণা নজরে এসেছে কর্তৃপক্ষের। সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশ জুড়ে আলোড়ন পড়ে যায় এবং আর্থিক ব্যবস্থায় ভূমিকম্পের মতো ধাক্কা লাগে। মুম্বইয়ের একটি শাখা থেকে এই প্রতারণা হয়েছিল, যার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী।
কেলেঙ্কারি কী?
সেই ১৩,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণায় নাম জড়ায় কোটি কোটিপতি অলঙ্কার ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও তাঁর মামা গীতাঞ্জলি জেমসের মালিক মেহুল চোকসীর। অভিযোগ, কয়েকজন কর্মচারীকে হাত করে নীরব মোদী ও মেহুল চোকসী ব্যাঙ্কের সিস্টেমেই অদলবদল ঘটিয়েছিলেন। যার ফলে বাণিজ্যের ঋণ দানের নামে বিশাল পরিমাণের অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে চলে আসে।
২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ প্রথম রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছে প্রতারণার অভিযোগ জানায়। যার ভিত্তিতে সিবিআই একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যে নীরব মোদী গ্রুপ, গীতাঞ্জলি গ্রুপ এবং চান্দরি পেপার অ্যান্ড অ্যালায়েড প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। সমান্তরালভাবে ইডি আর একটি মামলা করে।
তদন্তে প্রকাশ খোদ নীরব মোদী পিএনবি-র মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখা থেকে ২০১১ সালের মার্চ মাসে মুচলেকাপত্রটি বের করেছিলেন। এই মুচলেকাপত্রটিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণে বৈদেশিক ভারতীয় ব্যাঙ্কের শাখা থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমতি বা গ্যারান্টি বলা যায়। পরবর্তী ৬ বছরে নীরব মোদী এ ধরনের ১,২১২টি গ্যারান্টি বের করে নেন। ওই একই সময়ে তাঁর কোম্পানি নামে মাত্র ৫৩টি আসল লেটার অফ আন্ডারটেকিং বের করা হয়েছিল।
২০১৮ সালে নীরব মোদী হঠাৎই ভারত থেকে উধাও হয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার কয়েকদিন আগেই তিনি পালিয়ে বিদেশে চলে যান। মেহুল চোকসী পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে অর্থ অনুদানের বিনিময়ে ছোট ছোট দেশের নাগরিকত্ব নিলেও নীরব মোদী ব্রিটেনে ধরা পড়ে যান। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে গ্রেফতারির পর থেকে নীরব লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁকেও প্রত্যর্পণের আর্জি জানিয়ে রেখেছে ভারত সরকার।
নীরব মোদী ব্রিটিশ আদালতে বারবার জামিনের আবেদন জানালেও গতবছর মে মাসে তাঁর সপ্তম জামিনের আর্জিও নাকচ হয়ে যায়। এ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অলঙ্কার ও মূল্যবান সম্পদ, যার পরিমাণ ৫৯৭.৭৫ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়াও দেশ-বিদেশে থাকা ১,৯৬৮.১৫ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।