
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2024 08:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক সাত দিনের মাথায় মহারাষ্ট্র বিধানসভার নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে। ভোটের প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সব দল। এই সময় এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের এক সাক্ষাৎকার ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। অজিত বলেছেন, পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৯-এর বিধানসভা ভোটের আগে তিনি যে বিজেপির হাত ধরে সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তার পিছনে ছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি, কাকা শরদ পাওয়ারের পরামর্শ, তৎপরতা। কাকা সম্পর্কে আরও বলেছেন, আমি সর্বদা গুরুজনদের কথা মেনে চনি। উনি বলেছিলেন, তাই বিজেপির হাত ধরেছিলাম।
মহারাষ্ট্রের জোট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত বলেছেন তখন গোটা বিষয়টি দেখভাল করছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রসঙ্গত, শাহ তখন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।
পাঁচ বছর আগের সেই ঘটনাবলী ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। জোট সঙ্গী শিবসেনা মুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করায় বিজেপির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া ভেঙে যায়। শিবসেনা-কংগ্রেস-এনসিপি মিলে যখন সরকার গড়ার তোড়জোড় করছে তখন এক ভোরে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপর দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন অজিত পাওয়ার। অজিত তখন এনসিপির দু-নম্বর নেতা। যদিও সেই সরকার টেকেনি। শরদ পাওয়ারের নির্দেশে অজিত বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে এনসিপি-তে ফিরে আসেন। যদিও বিজেপির সরকারে যোগ দেওয়ায় অজিতকে তখন ‘সেন্সর’ করেননি প্রবীণ নেতা। তাঁর ‘ভুল’-কে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলে তখনই অজিতের সিদ্ধান্তের পিছনে কাকা শরদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু জোট সরকার গড়ার তাড়নায় শিবসেনা ও কংগ্রেস তখন এ নিয়ে কথা বাড়ায়নি।
পাঁচ বছর পর অজিতের দাবি, সেই ক্ষণস্থায়ী সরকার গঠনের পিছনে ছিলেন স্বয়ং শিল্পপতি গৌতম আদানি ও তাঁর কাকা শরদ। অজিতের কথায়, ‘কাকা কেন পড়ে সিদ্ধান্ত বদল করেন তা আজও আমার অজানা।’ তারপর যোগ করেন, ‘শরদ পাওয়ারের মন বুঝতে পারেন এমন মানুষের জন্ম হয়নি। ফলে আমি জানতে পারিনি আমাকে বিজেপির হাত ধরার পরামর্শ দিয়ে কেন তিনি পিছিয়ে যান।’
অজিতের এই কথায়, স্বভাবতই রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী বহু বছর ধরে আদানির বিজেপি যোগ নিয়ে সরব। এমনকী তিনি আদানি এবং মুকেশ আম্বানিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পরম বন্ধু বলেও কটাক্ষ করেন। সেই সঙ্গে রাহুলের অভিযোগ, এই দুই শিল্পপতিকে মোদী ঢেলে সরকারি সুবিধা দিয়ে চলেছেন।
অন্যদিকে, এনসিপি ভেঙে যাওয়ায় শরদ ও অজিত এখন ভিন্ন দলে। মূল এনসিপি হিসাবে অজিতের গোষ্ঠীকেই বেছে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রবীণ শরদ পাওয়ার তাঁর দল নিয়ে কংগ্রেস ও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সঙ্গে আছেন। অন্যদিকে, অজিত ফের বিজেপি সঙ্গী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে চলেন তিনি।