
সংগঠনের মতে, বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।
শেষ আপডেট: 13 December 2024 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে সেদেশের গতিরোধ করার ব্যবস্থা নিতে চলেছে গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানিকারক ভারতীয় সংগঠন। বাংলাদেশের অটো-মোটরের যন্ত্রাংশের ৯৫ শতাংশই বাইরে থেকে কেনা হয়। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। এই অবস্থায় বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়নের প্রতিবাদে চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এপার থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি মাসখানেকের জন্য বন্ধ রাখা হবে। ফলে, কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশে খারাপ হয়ে যাওয়া গাড়ি, অটো রিকশ, টোটো, সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে।
হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-আন্দোলন চলছে। তাই চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) ঠিক করেছে, প্রত্যক্ষভাবে সেদেশের সরকারকে বিপাকে ফেলার। সংগঠনের মতে, বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়। সংগঠন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন চলতে থাকায় তারা খুবই অসন্তুষ্ট। গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানির সঙ্গে যুক্ত দিল্লির ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, একমাসের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ রাখা হবে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল বলেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর এটাই সময়। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সিটিআই চেয়ারম্যান আরও বলেন, তিনি নিজেও মোটর যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ ৯৫ শতাংশ গাড়ির যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ পাঠায় ভারত। প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয় বাংলাদেশের সঙ্গে। গোয়েল হিসাব দিয়ে বলেন, ২০২৩-২৪ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিশাল ব্যবসা হয়েছে। ভারতের ৪১৫৫ জন রফতানিকারক বাংলাদেশের ৭৮৬৩ ব্যবসায়ীকে সামগ্রী পাঠিয়ে থাকেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারত ছাড়াও চিন ও জাপান থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি করে থাকে। তিনি জানান, সংগঠনের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনও সামগ্রী বাংলাদেশ রফতানি করা হবে না। আমরা সেদেশের সরকারকে একটা শিক্ষা দিতে চাই।
দিল্লির কাশ্মীরি গেট হল এশিয়ার বৃহত্তম মোটর যন্ত্রাংশ বিক্রির পাইকারি বাজার। এখানে স্থানীয় ও নামী কোম্পানির মালপত্র সুলভে পাওয়া যায়। এশিয়ার বৃহত্তম অটো পার্টস ও মোটর পার্টস মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনয় নারাং বলেন, কাশ্মীরি গেট বাজারে প্রায় ২০,০০০ দোকানদার আছেন। আমরা সকলে মিলে ঠিক করেছি বাংলাদেশি হিন্দুদের পাশে থাকব। কিছুদিনের জন্য লাভের কড়ি হারাতে চললেও একমাস দেখব, তারপর পরিস্থিতি বুঝে ফের সিদ্ধান্ত নেব। তিনি জানান, স্থানীয় মাল ছাড়াও মারুতি, হুন্ডাই, হন্ডা, টয়োটা, টাটা, শের্ভোলে, ফক্সওয়াগন বিভিন্ন বড় কোম্পানির গাড়ির যন্ত্রাংশও কাশ্মীরি গেট বাজার থেকে রফতানি করা হয়।