
মেয়র নির্বাচনের আগেই অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে পদ্মবাহিনী।
শেষ আপডেট: 20 February 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় আড়াই দশক পর দিল্লির তখতে ঐতিহাসিক জয়ের পর বৃহস্পতিবার রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ জুটির এবারের নজর দিল্লি পুরসভা দখলের দিকে। গেরুয়া শিবিরের পরবর্তী লক্ষ্য আম আদমি পার্টির দখলে থাকা দিল্লি পুরসভা হাতের মুঠোয় পুরে ফেলা। তারজন্য আগামী এপ্রিলে হতে চলা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লির (MCD) মেয়র নির্বাচনের আগেই অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে পদ্মবাহিনী।
যদি মেয়র নির্বাচনে বিজেপি জিতে যেতে পারে বা আপের হাত থেকে পুরসভার কর্তৃত্ব কেড়ে নিতে পারে, তাহলে রাজধানী শহরে অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিংবা কংগ্রেসের আর কোনও শক্তি-ভারসাম্য বজায় থাকবে না। এমনিতে কথায় আছে, একটি ভোট শেষের দিন থেকে পরবর্তী ভোটের কাজ শুরু করে বিজেপি। তাই সরকার গঠনের আনন্দের দিনেও তাদের নজর পড়ে রয়েছে পুরসভা দখলের দিকে।
দিল্লি পুরসভা হাতে এলে বিজেপির কাছে কেন্দ্র, রাজ্য এবং পুরস্তরে ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হবে। কেউ কোথাও বাধাদানের ক্ষমতায় থাকবে না। প্রায় ২৭ বছর পর বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। তারজন্য দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। তাই এবার একেবারে তলা থেকে ক্ষমতাকে কবজায় আনার কাজের অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে।
দিল্লি বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে ৪৮টিতে জিতেছে বিজেপি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ পেয়েছে ২২টি। টানা তৃতীয়বার কংগ্রেসের ভাঁড়ারে শূন্যই থেকে গিয়েছে। এই অবস্থায় ২৫০ সদস্যবিশিষ্ট দিল্লি পুরসভায় কাউন্সিলার ছাড়াও ৭ জন দিল্লির এমপি, তিন রাজ্যসভার সদস্য এবং ১৪ জন বিধায়ক মেয়র নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন। বর্তমানে বিজেপির ঘরে রয়েছেন ১২০ কাউন্সিলার। আম আদমি পার্টির হাতে ১২২ জন।
দিল্লি বিধানসভা ভোটের ফলের পর বিজেপির ৮ জন কাউন্সিলার বিধায়ক হয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, আপের তিনজন লড়ে তাঁরাও বিধায়ক পদে জিতেছেন। বিজেপির যে কাউন্সিলাররা এবার বিধায়ক হয়েছেন, তাঁরা হলেন- মুন্ডকা থেকে গজেন্দ্র দ্রাল, শালিমারবাগ থেকে রেখা গুপ্তা, যিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়াও, পুনম শর্মা, নীলম পেহলওয়ান, উমঙ্গ বাজাজ, চন্দন চৌধুরি, রবীন্দ্র সিং নেগি এবং শিখা রাই। সর্বোপরি মনোনীত কাউন্সিলার রাজকুমার ভাটিয়াও বিধানসভা ভোটে জিতেছেন। যদিও মনোনীত কাউন্সিলাররা মেয়র ভোটে ভোটদানের অধিকারী নন।
বিজেপির আরও লাভের গুড় ঘরে তুলেছেন প্রাক্তন কাউন্সিলার কমলজিৎ সেহরাওয়াত পশ্চিম দিল্লি থেকে এমপি পদে জিতে। দিল্লি ভোটের ফলাফলে পুরসভায় এখন ১২টি পদ শূন্য হয়েছে। যেখানে উপনির্বাচন হতে হবে। এছাড়াও উপরাজ্যপাল একজনকে মনোনীত কাউন্সিলার করবেন। বর্তমানে বিজেপির শক্তি হচ্ছে ১১২ এবং আপের ১১৯। গত ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মেয়র ভোট হয়েছিল মাত্র পাঁচ মাসের জন্য। আপের মণীশ কিচি বিজেপির কিষান লালকে তিন ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিলেন।
এখন বিজেপি ১৪টি বিধায়ক এবং ৭ এমপির ভোটে শক্তিশালী হয়েছে। ফলে এপ্রিলে হতে চলা মেয়র পদের ভোটে বিজেপির কাছে সেই সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি খুলে গিয়েছে। বিশেষত সরকার গঠনের পর প্রভাব খাটানোর বিষয়েও অনেকটা রাস্তা এগিয়ে থাকবে দল। তাছাড়া উপনির্বাচনেও সুবিধাজনক অবস্থায় চলে আসবে বিজেপি। সুতরাং, দিল্লি পুরসভা দখল প্রায় কবজায় চলে আসতে চলেছে ধরে নিলেও সাবধানে পা ফেলতে চায় তারা। সরকার গঠনের পরেই দিল্লির বর্তমান আপ মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা সেই পদক্ষেপেরই অঙ্গ হতে পারে।