
আতিশী মারলেনা
শেষ আপডেট: 17 September 2024 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যাবতীয় জল্পনার অবসান হয়েছে একটু আগে। বিজেপির সুষমা স্বরাজ, কংগ্রেসের শীলা দীক্ষিতের পর আম আদমি পার্টিও রাজধানীকে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী উপহার দিল।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তাঁর মন্ত্রিসভার এই মহিলা মন্ত্রীকে উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে কেউই অবাক হননি। শুধু আম আদমি পার্টিই নয়, বিজেপি এবং কংগ্রেসেও গুঞ্জন ছিল আতিশীর নাম নিয়ে। বিরোধীরা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যে আতিশী বাদে অন্য কাউকে আপ সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর উত্তরসূরি বাছলে মহিলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ উঠত।
প্রশ্ন হল, স্ত্রী সুনিতা, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও নেতা গোপাল রাই, সৌরভ ভরদ্বাজদের কিংবা দলিত মহিলা মুখ দিল্লি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার রাখি বিড়লাকে না দিয়ে কেন মুখ্যমন্ত্রিত্বের ব্যাটন আতিশীর হাতে তুলে দিলেন কেজরিওয়াল। আরও প্রশ্ন, আপ যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসে তাহলে আতিশী কি মুখ্যমন্ত্রী হবেন নাকি, ফের কেজরিওয়াল কুর্সিতে বসবেন। আপ নেতৃত্ব এই বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। আতিশীকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করে ভোটে লড়াই করবে কিনা তাও অস্পষ্ট রেখেছে আপ নেতৃত্ব।
দল ও প্রশাসনে আতিশী অবদানের কথা বিবেচনায় রেখেও অনেকে মনে করছেন স্বল্পকালের জন্য কুর্সিতে বসতে যাওয়া এই মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতার দ্বিতীয় কেন্দ্র হয়ে উঠে কেজরিওয়ালকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন। এমন সম্ভাবনা নিয়ে আপের অন্দরে এখনই চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন হল তারপরও আপ সুপ্রিমো কেজরিওয়াল কেন আতিশী উত্তরসুরি বাছলেন।
আপ নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, কেজরিওয়াল তিনটি কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক. এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আতীশি তাঁর পাশে থেকে দল ও সরকার পরিচালনায় সাহায্য করেছেন।
দুই. কেজরিওয়াল জেলে থাকাকালীন ছয় মাসে আতিশী এমনভাবে প্রশাসন পরিচালনা করেছেন যে সরকারি কর্তাদের উপর তাঁর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ কায়েম হয়েছে। এই অবস্থায় দ্বিতীয় কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে আতীশির অসহযোগিতার সম্ভাবনা কেজরিওয়াল উড়িয়ে দেননি।
তিন. তিনি বিজেপি দিল্লি বিধানসভার আসন্ন নির্বাচনে প্রয়াত সুষমা স্বরাজের মেয়ে বাঁশরীকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে তুলে ধরতে পারে। অবিকল মায়ের চেহারা এবং বাচনভঙ্গি ও কণ্ঠস্বরের এই তরুণী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং দিল্লির বিজেপির সাংসদ। এবারই প্রথম বিজেপি তাঁকে লোকসভায় প্রার্থী করে। জিতে লোকসভাতে নিজের উপস্থিতি তুলে ধরেছেন বাঁশরী। সুষমা ছিলেন দিল্লির জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী।
কোন বিপদে কেজরিওয়ালের পাশে ছিলেন আতিশী? ২০১৫ সালে আম আদমি পার্টি বড় ধরনের বিপদে পড়ে যোগেন্দ্র যাদব এবং প্রশান্ত ভূষণকে নিয়ে। দু’জনেই কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে দল ও সরকারে একনায়কতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ তুলে বহিষ্কৃত হন। বহিষ্কারের আগে পর্যন্ত আতিশী ছিলেন যোগেন্দ ও প্রশান্তের পাশে। দুই নেতাকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে আতীশি বিদ্রোহ করতে পারেন আশঙ্কা করে রাতারাতি তাঁকে দলের মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তখন।
কিন্তু সব আশঙ্কা উড়িয়ে আতিশী হাঁটেন উল্টো দিকে। যোগেন্দ ও প্রশান্ত ভূষণকে লেখা খোলা চিঠিতে দলের সঙ্গে বিবাদের জন্য তাঁদেরকেই কাঠগড়ায় তোলেন এই নেত্রী। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন কেজরিওয়াল। কারণ, যোগেন্দ্র, প্রশান্তরা ছিলেন একটা সময় আপের মুখ। ক’দিন পরেই আতিশী দলীয় মুখপাত্রের পদে ফিরিয়ে আনেন কেজরিওয়াল।
দিল্লির কালকাজির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বিধায়ক আতিশী মন্ত্রী হন গত বছর মার্চে উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়াকে সিবিআই গ্রেফতার করার পর। তবে তার আগে থেকে মনীশের হাতে থাকা শিক্ষা দফতরের উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করছিলেন দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজের এই প্রাক্তনী। বছর বিয়াল্লিশের আতিশী পরে অক্সফোর্ড থেকে শিক্ষা বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করার পর দেশে ফেরেন।
আপ ক্ষমতায় আসার পর দলের কাজের পাশাপাশি দিল্লির স্কুল শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেন সিলেবাসের সঙ্গে কারিগরি বিষয়কে যুক্ত করে। তখনকার শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে মনীশ সিসোদিয়া কৃতিত্ব পেলেও সংস্কারের মূল কারিগর ছিলেন শিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা আতিশী। দিল্লির স্কুল শিক্ষায় আমুল পরিবর্তনের জন্য নিউ ইয়র্ক টাইমস মনীশের পাশাপাশি উপদেষ্টা আতিশীকেও কৃতিত্ব দেয়।