
জয়রাম রমেশ এবং অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 2 August 2024 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগেই লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্বাধীকার ভঙ্গের নোটিস জমা করেছেন কংগ্রেসের সাংসদ তথা পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণ জিৎ সিং চান্নি। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। একই বিষয়ে শাহের বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় স্বাধীকার ভঙ্গের নোটিস জমা করেছেন কেরলের তিন সিপিএম সাংসদ।
একই সময় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে অধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা হওয়ার নজির আছে কি না সে ব্যাপারে কোনও মহলই নিশ্চিত নয়। ১৮ তম লোকসভার অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে এককাট্টা। অধিবেশনের বিতর্ক, আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্বেও তা টের পাওয়া যাচ্ছে। অধিকার ভঙ্গের জোড়া নোটিস সেই ধারাবাহিকতারই দৃষ্টান্ত বলা চলে।
এখন দেখার প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভায় চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা নোটিসের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেন। নিয়ম মেনে তাঁরা নোটিস দুটি সংসদের প্রিভিলেজ কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দিলেও বিজেপির নাক কাটা যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বৃহস্পতিবার শাহ রাজ্যসভায় প্রশ্নের জবাবে দাবি করেছিলেন ওয়ানাডে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ধসের সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্র কেরল সরকারকে ২৩ জুলাই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। তারপর পরবর্তী তিনদিন ধরেও সতর্ক করা হয়। শাহ ইঙ্গিত করেন, কেন্দ্রের সতর্কবার্তা মেনে কেরল সরকার ব্যবস্থা নিলে এত প্রাণহাণি এড়ানো যেত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি বৃহস্পতিবারই নসাৎ করে দিয়েছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শুক্রবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়ের অফিসে পাঠানো স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিসে রমেশ দাবি করেন, চেন্নাই থেকে প্রকাশিত ‘দ্য হিন্দু’ খবরের কাগজের ফ্যাক্ট চেক ইউনিট বলেছে শাহের দাবি ভিত্তিহীন। কেরল সরকারও একই কথা বলেছেন। রাজ্যসভার অসত্য তথ্য দিয়ে তিনি সদস্যদের অধিকার ভঙ্গ করেছেন। ওই একই বিষয়ে কেরল থেকে রাজ্যসভায় সিপিএমের তিন সাংসদও অধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা দেন।
দু’দিন আগ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কংগ্রেস সাংসদ চরণজিৎ যে অধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা করেন তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। লোকসভায় বাজেট বিতর্কে রাহুল গান্ধী জাতি গণনা নিয়ে সরব হলে বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর বিরোধী দলনেতার জাত প্রসঙ্গ তুলে উপহাস করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘যাঁর নিজেরই জাতের ঠিক নেই তিনি কিনা জাত গণনা নিয়ে সরব হয়েছেন।’
পরদিন প্রধানমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের ওই মন্তব্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই আচরণের নিন্দা করে চরণজিৎ তাঁর বিরুদ্ধে অধিকার ভঙ্গের নোটিস স্পিকারের কাছে জমা দেন।