ইতিহাসের পাঠ্যবই বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বের প্রথম যান্ত্রিক বিমান ওড়ান মার্কিন উদ্ভাবক ওরভিল এবং উইলবার রাইট। ১৯০৩ সালে উত্তর ক্যারোলিনার কিটি হকে সফল উড়ানেই আধুনিক বিমানযাত্রার সূচনা হয়।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 26 August 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের এক বিজেপি নেতার (BJP Leader) মুখে পৌরাণিক কাহিনি (Mythology) ঘেঁটে বিজ্ঞানের (Science) দাবি। কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur) হিমাচল প্রদেশের এক স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের বলেছিলেন, মহাকাশযাত্রী হিসেবে (Hanuman in Space) প্রথম নাম লেখাতে পারেন ভগবান হনুমান। তাঁর পরেই এবার মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chauhan) দাবি তুললেন, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের (Wright brothers) বহু আগেই ভারতে ছিল উড়োজাহাজ (1st Plane)।
ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (IISER)–এর মঞ্চে চৌহান বলেন, “রাইট ব্রাদার্সের আগে আমাদের কাছে ছিল পুষ্পক বিমানের মতো প্রযুক্তি। আজকের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র— এসব মহাভারতের পাতায় বহু আগেই বর্ণিত। আমাদের দেশের বিজ্ঞান বহু হাজার বছর আগে থেকেই যথেষ্ট অগ্রসর ছিল।”
তবে ইতিহাসের পাঠ্যবই বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বের প্রথম যান্ত্রিক বিমান ওড়ান মার্কিন উদ্ভাবক ওরভিল এবং উইলবার রাইট। ১৯০৩ সালে উত্তর ক্যারোলিনার কিটি হকে সফল উড়ানেই আধুনিক বিমানযাত্রার সূচনা হয়।
রাজনীতিতে পৌরাণিক বিজ্ঞানের উল্লেখ নতুন নয়। এর আগেও শিবরাজ চৌহান মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বারবার ‘পুষ্পক বিমান’-এর প্রসঙ্গ টেনে ভারতের প্রাচীন প্রযুক্তিকে আধুনিক বিজ্ঞানের পূর্বসূরি হিসেবে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে অনুরাগ ঠাকুরের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক চলছে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে হিমাচলের এক স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন করেছিলেন তিনি— “প্রথম মহাকাশযাত্রী কে ছিলেন বলতে পারো?” কেউ উত্তর দিল নিল আর্মস্ট্রং, তিনি বলেন, “আমার তো মনে হয় হনুমানজি।”
কিন্তু তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। প্রথম মহাকাশযাত্রী ছিলেন সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গাগারিন, যিনি ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ‘ভোস্তক ১’ মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিলেন। আর প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখেন মার্কিন নভোচর নিল আর্মস্ট্রং ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই।
অনুরাগ ঠাকুরের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি। তাঁর কথায়, “সংসদের একজন সদস্য এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যদি শিশুদের বলেন চাঁদে প্রথম পা রাখেন নিল আর্মস্ট্রং নয়, হনুমান— এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিজ্ঞানকে পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে মিশিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভুল পথে চালিত করা সংবিধানে বর্ণিত বৈজ্ঞানিক চেতনার অপমান।”
অগস্টের শুরুতেই মহাকাশ থেকে ফিরেছেন ভারতের দ্বিতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। ইসরো ক'দিন আগেই ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনের মডেল প্রকাশ করেছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে সম্পূর্ণ স্টেশনটি স্থাপন করার চেষ্টা করছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
২০৪৭ সাল, স্বাধীনতার ১০০ বছর। ওই সময় পর্যন্ত পরপর মিশন সাজানো রয়েছে ইসরোর। যার নামকরণ করা হয়েছে 'ইন্ডিয়ান স্পেস ওডিসি' বা ভারতের মহাকাশ গবেষণার 'মহাকাব্য'। অনেকেই মজা করে বলাবলি করছেন, অনুরাগ ঠাকুর, শিবরাজ সিং চৌহান-রা এই মহাকাব্যিক ব্যাপারটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলছেন, বিজ্ঞান বা ইতিহাসকে নয়।