
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 May 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে হাসছিল কাশ্মীর। প্রতি সিজনেই ভরে ভরে পর্যটকরা যাচ্ছিলেন। ভূস্বর্গকে কাছ থেকে দেখার আকাঙ্খা পূরণে আট থেকে আশি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটছিলেন সকলে। লাল শাড়ি পরে কাশ্মীরের বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্য রিক্রিয়েট করা বা বাবা-মাকে চন্দ্রভাগা, ঝিলমের স্রোত দেখানোর ইচ্ছে ছাড়তে পারেননি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন। গুলমার্গের (Gulmarg) বরফে ঢাকা পাহাড় বা গন্ডোলা থেকে দেখা দৃশ্য আজও হয়তো চোখে ভাসছে। কী শান্তিতেই না ঘুরেছিলেন, কী নিশ্চিন্তই না ছিলেন, বলছেন সদ্য কাশ্মীর ফেরত আম বাঙালি। কিন্তু সেই শান্ত গুলমার্গই ফের কেঁপে উঠল গুলির শব্দে। যাত্রী নিরাপত্তায় বন্ধ হল বিখ্যাত গন্ডোলা রাইড (Gondola Ride)।
নিয়ন্ত্রণরেখা (LOC) বরাবর এলাকাগুলি অশান্ত থাকেই। যুদ্ধবিরতি লঙ্খন (Ceasefire) করে মাঝেমধ্যেই গুলি-গোলা চলে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে পর্যটকের খুব একটা হিড়িক থাকে না। পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও ক্লায়েন্টদের ওমন জায়গায় নিয়ে যায় না। কিন্তু কাশ্মীর ট্রিপ মানেই গুলমার্গ, সোনমার্গ ও পহেলগাম ও শ্রীনগর। কোথাও যাওয়া হোক না হোক কাশ্মীর গেলে এই জায়গাগুলিতে সকলেই যান।
এই পরিস্থিতিতে গুলমার্গের মতো জায়গায় গুলি চলায় রীতিমতো আতঙ্কে পর্যটকরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্ধ করা হল গন্ডোলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই জয় রাইডের টানে বহু পর্যটক গুলমার্গ যেতেন। কবে ফের এটি খোলা হবে সেবিষয়ে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
সেনা সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে শেষবার গুলমার্গে গুলি চালিয়েছিল পাক সেনা। তারপর থেকে এমন ঘটনা আর হয়নি। সাত বছর পর ফের এমন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে সেখানকার পর্যটন শিল্প।
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর 'সিন্ধু জলচুক্তি' স্থগিত রাখে দিল্লি। তারপর থেকেই লাগাতার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। অপারেশন সিঁদুরের পর গুলি বর্ষণের পরিমাণ বেড়ে যায়। মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে লাগাতার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি বর্ষণ করে পাক সেনা। কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, উরি এবং আখনুরে গুলি এবং মর্টার শেল চলে। মৃত্যু হয় বহু মানুষের। শহিদ এক জওয়ানও।