
সংসদ ভবন
শেষ আপডেট: 28 June 2024 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার পদ ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আগামী সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে কে হবেন ১৮তম লোকসভার ডেপুটি স্পিকার। আগের লোকসভায় পদটি ফাঁকা রেখেছিল সরকার, স্বাধীন ভারতে যার কোনও নজির নেই। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, প্রথা মেনে পদটি সরকার বিরোধীদের দেবে কিনা। এই ব্যাপারে সরকারের মত বদলের এখনও কোনও আভাস মেলেনি। তবে ব্যাক চ্যানেলে বিষয়টি নিয়ে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রবীণ মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।
ডেপুটি স্পিকার পদ ফিরিয়ে তা বিরোধীদের দিলে স্পিকার পদে সর্বসম্মতভাবে কাউকে বেছে নেওয়া যেতে পারে বলে ইন্ডি জোট প্রস্তাব দিয়েছিল সরকারকে। সেই প্রস্তাবে সায় না মেলায় দ্বিতীয়বার স্পিকার হলেও ওম বিড়লাকে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ওই আসনে বসতে হয়েছে। স্বভাবতই ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধীদের দেওয়ার সম্ভাবনা একপ্রকার নাকচ হয়ে গিয়েছে। তারপরও ব্যাক চ্যানেলে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবার রাজনাথকে বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে বিজেপি পদটি ফেরালেও তা সরকারের দখলে রাখবে এবং এনডিএ-র কোনও শরিক নেতাকে ওই পদে বসানো হতে পারে। চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলুগু দেশম পার্টি স্পিকার পদ দাবি করেছিল। তারা ডেপুটি স্পিকার পদ নিতে আগ্রহী নয়। দলের বক্তব্য তারা বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন।
নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে কিনা এখনও স্পষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে বিহারের হিন্দুস্থানি আওয়াম মোর্চার প্রবীণ নেতা জিতনরাম মাঝিকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করিয়ে ডেপুটি স্পিকার করা যেতে পারে। যদিও বিজেপির একাংশের মতে, পদটি দলের দখলেই রাখা সঠিক হবে। কারণ শরিকদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকার।
অন্যদিকে, কংগ্রেস মহলের খবর তারাও পদটি পেলে ইন্ডি জোটের কোনও শরিক দলের নেতাকে ওই পদে বসাতে পারে। লোকসভায় শক্তির বিচারে এবার দ্বিতীয় স্থানে আছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি। তাদের হাতে ৩৭জন সাংসদের সমর্থন আছে। অখিলেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে এই ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে কংগ্রেস। যদিও আসল বিষয়টিই এখনও স্পষ্ট হয়নি সরকার ডেপুটি স্পিকার পদটি আদৌ বিরোধীদের দিতে রাজি হবে কিনা।
বিরোধীরা যে কারণে পদটি পেতে আগ্রহী, একই কারণে সেটি হাতছাড়া করতে নারাজ শাসক শিবির। কারণ, লোকসভার স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সভা পরিচালনা করে থাকেন। আইন অনুযায়ী তিনি স্পিকারের চেয়ারে বসামাত্র ওই পদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী হন। অর্থাৎ তখন স্পিকার আর ডেপুটি স্পিকারের ক্ষমতায় কোনও ফারাক থাকে না। সরকারের আশঙ্কা বিরোধী দলের কেউ ডেপুটি স্পিকার হলে বিশেষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারেন। যদিও এমন নজির লোকসভায় নেই।