
গৌতম আদানি
শেষ আপডেট: 21 November 2024 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বৃহত্তম সৌর প্রকল্পের জন্য সরকারি আধিকারিকদের ২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে। এই প্রেক্ষিতেই আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে আমেরিকায়। এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের বন্ড আমেরিকার বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকেও তাঁরা সরে এসেছে।
মার্কিন বাজারে ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’র ৬০ কোটি ডলার মূল্যের বন্ড ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছে সংস্থা। এদিকে তাঁদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে মুখে খুলে সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, আমেরিকার বিচার বিভাগ এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন একটি ফৌজদারি এবং একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছে। নিউ ইয়র্কের জেলা আদালতে মামলাগুলি দায়ের হয়েছে। তাতে সংস্থার বোর্ড সদস্য গৌতম আদানি ও সাগর আদানির নাম থাকায় বন্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের যে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে তা থেকে ২০ বছরে ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হত। এই প্রকল্পের জন্যই আমেরিকা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে টাকা তুলেছিল আদানি গোষ্ঠী বলে দাবি। মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। গৌতম এবং সাগর আদানি ছাড়াও 'আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড' এবং 'আজিউর পাওয়ার গ্লোবাল লিমিটেড'কেও এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মূল অভিযোগ, আমেরিকার বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং কর্মকর্তাদের ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছেন গৌতম আদানি। তবে শুধু গৌতম নন, একই অভিযোগে অভিযুক্ত তাঁর ভাইপো সাগর আদানিও। এছাড়াও আরও কয়েকজন ভারতীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ঘুষের প্রস্তাব ছাড়াও বিনিয়োগকারী ও ব্যাঙ্কের কাছে মিথ্যে তথ্য দিয়েছেন আদানিরা। অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেডে’র সিইও বিনীত জৈন, রুপেশ আগরওয়াল, সিরিল ক্যাবানেস, সৌরভ আগরওয়াল, রঞ্জিত গুপ্ত, এবং দীপক মলহোত্রা নামের ব্যক্তিরা।
গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকায় ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরেই আদানি গ্রুপের সমস্ত কোম্পানি মিলিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ পড়েছে শেয়ার দর। বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ার বাজার খোলার আগেই ঘুষ দানের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে হু-হু করে পড়তে থাকে আদানি গ্রুপের শেয়ারের দাম।