
Narendra Modi, Xi Jinping
শেষ আপডেট: 13 March 2024 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের চিন-ভারত যুদ্ধের আশঙ্কা। ১৯৬২ সালের পর দ্বিতীয়বার চিন-ভারত যুদ্ধের আবহ তৈরি হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধের পূর্বাভাস দিয়ে দাবি করেছেন, হিমালয় পার্বত্য এলাকায় চিনের সঙ্গে ভারতের ফের একবার বৃহত্তর সংঘাতের পরিবেশ ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকে এই আবহ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে বলে তাঁদের মত।
যদিও ভারতের প্রাক্তন এক সেনাপ্রধান এই মতের বিরোধী। তাঁর মতে, দুটি সময়ের মধ্যে বিরাট ফারাক আছে। আধুনিক ভারতের সমরবহর তখনকার মতো নেই। ফলে তাকে দাবিয়ে রাখা সহজ নয়। তাছাড়া তাইওয়ান-সমস্যার কাঁটা যতদিন গলায় আটকে থাকবে, ততদিন চিন দ্বিতীয় কোনও ঝুঁকির পথে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।
চলতি বছরে চিন প্রতিরক্ষা খাতে ৭.২ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। চিনের আপাতত লক্ষ্য তাইওয়ান দখল করে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা। একটি রিপোর্টে চিনের এই মনোভাবের কথা প্রকাশও পেয়েছে। চিন জানিয়েছে, স্বাধীনতার নামে তাইওয়ানের 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' কাজকারবার এবং তার বিদেশি মদতদাতাদের বরদাস্ত করা হবে না।
দি রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট 'ওয়ার ক্লাউডস ওভার দি ইন্ডিয়ান হরাইজন?' শীর্ষক একটি নিবন্ধে বলেছে, ভারতের উত্তর-পশ্চিম হিমালয় পার্বত্য এলাকার পূর্ব লাদাখে যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে এই সম্ভাবনা আরও জটিল আকার ধারণ করবে এবং যুদ্ধ বাধতে পারে ২০৩০ সালের মধ্যে যে কোনও সময়ে।
ভারতের পূর্ব লাদাখের দিকে চিনের বিষনজরের কারণ জ্বালানি সংক্রান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। ইরান থেকে তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের পশ্চিম প্রান্তের জিনজিয়াং অঞ্চলের কাশগরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিয়ে আসতে চায় চিন। পাকিস্তানের জমির উপর দিয়ে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে এই জ্বালানি নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে বেজিংয়ের। সে কারণে ভারতের হাতে থাকা লাগোয়া লাদাখ চিনের কাছে ঝুঁকির বিষয় হয়ে থাকবে। আর সে কারণেই চিনা সেনার অনুপ্রবেশের সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারায়ণের মতে, পূর্ব লাদাখ এবং কারাকোরাম গিরিপথের উপর চিনের দীর্ঘকালের নজর রয়েছে। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করডরের পক্ষে এই দুই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওরা যদি ভেবে থাকে আমরা ওদের হাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীর, তিব্বত তুলে দেব, তাহলে তা হবে বিরাট ভুল। কারণ ১৯৬২ সালের ভারতের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের ভারতের আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।