
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও রাজ্যসভা সদস্য স্বাতী মালিওয়াল। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 May 2024 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকারি বাসভবনে তাঁরই ব্যক্তিগত সহকারীর হাতে আক্রান্ত হলেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভা সদস্য স্বাতী মালিওয়াল। সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সনের। স্বাতীর অভিযোগ, কেজরিওয়ালের পিএ বিভাব কুমার মুখ্যমন্ত্রী বাসভবনের ভিতরেই তাঁকে মারধর করেন।
তাঁকে হেনস্তার পরেই তিনি ফোনে পুলিশ ডাকেন। তখন টহলদারি একটি ভ্যান মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ঢোকে। স্বাতী মালিওয়াল দুটি পিসিআর কল করেছিলেন বলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে। ফোনে তিনি পুলিশের কাছে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পিএ মারধর করেছেন বলে সাহায্য চান।
সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ যখন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের বাসভবনে পৌঁছায় তখন মালিওয়াল সেখানে ছিলেন না। পুলিশ সূত্র আরও জানিয়েছে, স্বাতীর আরও অভিযোগ, পিএ-কে দিয়ে তাঁকে মারধরের পিছনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হাত রয়েছে। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ প্রথম ফোনটি আসে।
দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালিওয়াল এ মাসের গোড়ার দিকে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনা কমিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ছাঁটাই করার পরই সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন মালিওয়াল। কমিশনের ৯০ জনের মধ্যে মাত্র ৮ জন হলেন স্থায়ী কর্মচারী। বাদবাকি সকলকে ছাঁটাই করলে মহিলা কমিশন কীভাবে চলবে, প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বাতী।
কিন্তু, দিল্লির গভর্নরের দফতর জানায়, দুর্নীতি মাটি চাপা দিতে কৌশল নিচ্ছেন মালিওয়াল। কারণ গভর্নরের অনুমোদনহীন এই নিয়োগগুলি হয়েছিল মালিওয়ালের সময়েই। এদিন মারধরের ঘটনায় আম আদমি পার্টিকে গিলোটিনে চড়াতে দেরি করেনি বিজেপি। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য চাঁচাছোলা ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
তিনি একটি এক্সবার্তায় লিখেছেন, স্বাতী মালিওয়াল যে অভিযোগ তুলেছেন সে বিষয়ে মনে রাখতে হবে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নিয়ে তিনি এতদিন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। শুধু তাই গ্রেফতারি এবং জামিনে মুক্তির আগে পর্যন্ত দেশেই ছিলেন না তিনি।
দিল্লির আর এক বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র ট্যুইটে লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে যখন ঘটনাটি ঘটেছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের জবাবদিহি দেওয়া উচিত। দেশের একজন সাংসদকে কী করে মুখ্যমন্ত্রীর পিএ মারধর করতে পারেন?