.jpeg)
এই পরিস্থিতি পরিত্রাণের একমাত্র উপায় কৃত্রিম বৃষ্টি।
শেষ আপডেট: 19 November 2024 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির দূষণ ঠেকাতে কেন্দ্রের কাছে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের অনুমতি চাইল আম আদমি পার্টির সরকার। মঙ্গলবার দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই কেন্দ্রীয় সরকারকে লেখা এক চিঠিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপের দাবি জানান। মন্ত্রী বলেন, উত্তর ভারত জুড়ে ধোঁয়াশার চাদর ঢেকে রয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিত্রাণের একমাত্র উপায় কৃত্রিম বৃষ্টি। আসলে এটা পুরোপুরি স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হয়ে রয়েছে।
এদিকে, প্রচণ্ড কুয়াশার জেরে ফের দুর্ঘটনার বলি হলেন দুই বাইক আরোহী। একটি ঘটেছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বুলন্দশহরে এবং অন্যটি বদাউনে। বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটায় মঙ্গলবার সকালের দিকে অন্তত তিন ডজন গাড়ি আরোহী জখম হয়েছেন। আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশায় একের পর এক গাড়ির ধাক্কায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় রাস্তায় প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
এদিন সকালে সুপ্রিম কোর্টের কার্যাবলি শুরু হওয়ার মুখে বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কপিল সিবাল সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী দিল্লি ও এনসিআরের বায়ুদূষণ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধান বিচারপতির। তাঁরা শীর্ষ আদালতের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানান। সেই আবেদনের জবাবে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমার জানান, আমরা বিচারকদের বলেছি যেখানে যেখানে সম্ভব, সেখানে ভার্চুয়াল শুনানি করতে। সিবাল বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গিয়েছে। তাঁর যুক্তিকে সমর্থন করেন দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং গোপাল শঙ্করনারায়ণও।
দিল্লি কি আর দেশের রাজধানী থাকবে? রাজধানী শহরের বিপজ্জনক মাত্রায় বায়ুদূষণ নিয়ে মঙ্গলবার এই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা শশী তারুর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৈনন্দিন সহনশীল দূষণের মাত্রা থেকে ৬০ গুণ বেশি ছাড়িয়েছে দিল্লির দূষণ। এদিকে, দূষণের কারণে সুপ্রিম কোর্ট সোমবারই আম আদমি পার্টির সরকারকে প্রবল ভর্ৎসনা করে। তার জেরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আতিশী কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন।
মঙ্গলবার দিল্লি ও সংলগ্ন নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং গুরুগ্রামে বিপজ্জনক মাত্রা ছুঁয়েছে দূষণের সূচক। এই জায়গাগুলিতে সূচক ৫০০ ছুঁয়েছে এদিন সকালে। এনিয়ে গত সাতদিন ধরে দিল্লির দূষণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক স্কুলের পর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ও অনলাইন ক্লাস চালু করেছে মঙ্গলবার থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস চলবে। জওহরলাল নেহরু ২২ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস নেবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
দিল্লি সরকার এই পরিস্থিতিকে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা বলে ঘোষণা করেছে। সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে দূষণ ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। প্রবল দূষণের জেরে অসংখ্য ট্রেন এবং উড়ান চলাচল বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ২২টি ট্রেন ৯-১২ ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করছে। এছাড়াও ৯টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে ঘন ধোঁয়াশার কারণে।