
ধৃত যুবতী - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2024 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর পর বিয়ে। তারপর ডিভোর্স চেয়ে খোরপোষের নামে মোটা টাকা হাতানো! এটাই ছিল সীমার 'ওয়ার্ক প্রোফাইল'। না, সোনম কাপুর অভিনীত বলিউড ছবি 'ডলি কী ডোলি'র প্লট নয় এটা। একেবার বাস্তব ঘটনা এটি।
উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা সীমা ওরফে নিক্কি ২০১৩ সালে প্রথমবার আগ্রার এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেছিলেন। কয়েক মাস পর তিনি শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৫ লক্ষ টাকা পান! সেই শুরু। তারপর একাধিকবার বিয়ে করে এমনভাবেই টাকা হাতিয়েছেন সীমা। প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এইভাবে জালিয়াতি করার পর অবশেষে এই 'লুটেরা স্ত্রী'কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৩ সালের পর ২০১৭ সালে গুরুগ্রামের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করেছিলেন সীমা। একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধেও ডিভোর্সের মামলা করে খোরপোষ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ২০২৩ সালে জয়পুরের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন তিনি। তবে এবার আর কোনও মামলা নয়, শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি করেছিলেন সীমা। বিয়ের কয়েক সপ্তাহ বাদেই সোনার গয়না এবং নগদ মিলিয়ে ৩৬ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সীমার নাগাল পায় পুলিশ।
সীমাকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, বিভিন্ন ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট দেখে নিজের 'টার্গেট' বেছে নিতেন তিনি। ডিভোর্স হয়েছে বা স্ত্রী মারা গেছে, এমন পুরুষদের সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করতেন। তারপর কথার ছলে তাঁদের ফাঁসিয়ে বিয়ে করতেন এবং কিছুদিন যেতে না যেতেই নানা অছিলায় স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করে বা ডিভোর্স চেয়ে টাকা হাতাতেন।
দেশের বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে তিনবার বিয়ে করে এখনও পর্যন্ত মোট ১.২৫ কোটি টাকা 'রোজগার' করেছিলেন সীমা। এবার এই কাণ্ডে তাঁর সঙ্গে আরও অন্য কেউ যুক্ত কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।