
প্যরিস অলিম্পিকে ভারতীয় দলের পোশাক।
শেষ আপডেট: 17 July 2024 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ আগস্ট, লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সেদিন মাটির মানুষকে নিয়ে চন্দ্র-মঙ্গলযাত্রার মতোই দেশের ভারী ভারী রঙিন স্বপ্নে বুঁদ করবেন মোদী। তার সঙ্গে যে চাকচিক্যে মোড়া পাগড়ি বা টুপি ও পোশাক পরবেন তাও পরচর্চার একটি বিষয় হয়ে ওঠে প্রতিবার।
কিন্তু, যে মানুষগুলো প্যারিসের অলিম্পিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন, দেশের মর্যাদাকে তুলে ধরবেন, তাঁদের পোশাকেই কেন জীর্ণতার ছাপ? স্বাধীনতা দিবসে মোদীর ভাষণের প্রায় মাসখানেক আগে আগামী ২৬ জুলাই প্যারিসে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যে পোশাকে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা মার্চপাস্টে অংশ নেবেন তা একেবারে ম্যাড়মেড়ে শুধুই নয়, আধুনিক ফ্যাশনের কোনও জৌলুসই তাতে চোখে পড়েনি দেশের নাগরিকদের।
বিশেষ করে ভারতীয় টিমের এই পোশাকের রূপকার দেশের প্রখ্যাত পোশাক পরিকল্পক তরুণ তাহিলিনিয়ানি। নেট নাগরিকরা এখন তাঁকে ছিঁড়ে খাচ্ছেন এই বলে যে, রিলায়েন্স কর্তা-গিন্নি মুকেশ আম্বানি ও নীতা আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির বিয়েতে প্রখ্যাত কিম কার্দাশিয়ানদের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন বলে। তাঁদের মতে, তরুণ তাহিলিয়ানি রাজবাড়ির অতিথি ও বলিউড তারকাদের সাজাতেই এত ব্যস্ত যে, দেশ ও জাতির জাতীয় পোশাকের পরিকল্পনার সময়ই খুঁজে পাননি হয়তো।
গত সপ্তাহে প্যারিস অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের পরিধেয় পোশাকের উদ্বোধন হয়। সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য, ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপার্সন পিটি উষা এবং তরুণ তাহিলিনিয়ানি নিজেও। কিন্তু সেই পোশাক দেখে চোখে জল এসে গিয়েছে দেশের তাবড় মানুষের। নেটিজেনরা লিখেছেন, এ তো দেখে মনে হচ্ছে, কোনও স্কুলের স্বাধীনতা দিবস পালনের পোশাক। দেশের মহিলা ক্রীড়াবিদরা পরবেন শাড়ি। আর পুরুষরা কুর্তাবন্দ। দুটিতেই ভারতের তেরঙা বর্ডার থাকবে। প্রশ্ন উঠেছে, দেশাত্মবোধও খানিকটা কায়দা করে তুলে ধরা যেত, কেন এভাবে হেলাফেলা করে করা হল?
তরুণ তাহিলিয়ানি যিনি দেশের তাবড় তারকাদের ড্রেস ডিজাইনার হয়েছেন, তিনি কি আর একটু যত্ন করে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য পোশাক পরিকল্পনা করতে পারতেন না! পুরুষদের কুর্তা তৈরি হয়েছে মস কটনের। আর মহিলাদের শাড়ি সাদামাঠা ক্রেপ যার সঙ্গে হাইনেক ব্লাউজ। তাহিলিয়ানি এ বিষয়ে বলেছেন, প্যারিসের ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এঁদের এই পোশাক পরে থাকতে হবে। তাই হালকাফুলকা সুতির পোশাকেই আমাদের নজর ছিল।
কিন্তু, তাঁর মন যে এদিকে নেই, তার প্রমাণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ওইদিন প্যারিসের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে। তা সত্ত্বেও অনেকের প্রশ্ন তাহিলিয়ানির কথা মেনে নিলেও আমাদের অ্যাথলেটদের দেখে কেন মনে হবে এইমাত্র তাঁরা সার্কাস থেকে বেরিয়ে এলেন। যেখানে মঙ্গোলিয়ার মতো ছোট্ট একটা দেশও পোশাক পরিকল্পনায় ভারতকে টেক্কা দিয়েছে। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরম্পরাকে কীভাবে আধুনিক ফ্যাশনদুরস্ত করা যায়!