
সংবাদ মাধ্যমকে বুঝিয়ে দিলেন, এই 'বিপদের' দিনেও স্ত্রী ও গান্ধী পরিবার তাঁর সঙ্গে আছে। বুধবার ইডি অফিসের সামনে।
শেষ আপডেট: 16 April 2025 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গান্ধী পরিবারের জামাই রবার্ট বঢরা বুধবারেও হাজিরা দিলেন দিল্লির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসে। মঙ্গলবার প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে গুরুগ্রামের জমি কেলেঙ্কারিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাঁকে। মঙ্গলবার দেখা না গেলেও বুধবার সকালে স্বামীকে ইডি অফিসের সামনে ছেড়ে দিতে এসেছিলেন কেরলের ওয়ানাড় লোকসভা কেন্দ্রের সদস্য তথা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। রবার্ট ইডি অফিসে ঢুকে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে রবার্টকে আলিঙ্গন করেন সনিয়া গান্ধী-কন্যা। উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমকে বুঝিয়ে দিলেন, এই 'বিপদের' দিনেও স্ত্রী ও গান্ধী পরিবার তাঁর সঙ্গে আছে।
রবার্ট বঢরাকে মঙ্গলবার দ্বিতীয়বার তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। গান্ধী পরিবারের জামাই তথা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কেরলের ওয়ানাড় লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট এর আগের তলবে হাজিরা না দেওয়ায় ফের তাঁকে ডেকে পাঠায় ইডি।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল তাঁকে একটি জমি কেলেঙ্কারির তদন্তে সমন পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। কিন্তু, সেদিন হাজিরা দেননি, সেই মতো এদিনও তাঁকে ডেকে কিছু জিজ্ঞাস্য আছে বলে জানানো হয়। সেই মতো মঙ্গলের পর বুধের সকালেও রবার্ট বঢরা হাজির হয়ে যান ইডি অফিসে। প্রিয়াঙ্কার স্বামী অবশ্য এর পিছনে বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে, এমনই অভিযোগ তুলেছেন।
হরিয়ানার শিখরপুরে একটি জমি লেনদেনে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে বঢরার বিরুদ্ধে। ইডি অফিসে হাজিরার সময় রবার্টকে অবশ্য বেশ চনমনে লাগছিল। সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে হাসিমুখে ঢুকে যান ভিতরে। এর আগে সমনাদেশ পেয়ে বঢরা একটি সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অবব্যবহার করছে বিজেপি। তিনি রাজনীতিতে আসার কথা ভাবনাচিন্তা করছেন।
শিখরপুর জমি কেলেঙ্কারিতে ইডি কী জানতে চায়
অভিযোগ যে, রবার্ট বঢরার স্কাইলাইট হসপিটালিটি নামে একটি সংস্থা ২০০৮ সালে গুরুগ্রামে সাড়ে ৭ কোটি টাকায় একটি সাড়ে ৩ একর জমি কিনেছিল। সেই জমিটি কিছুদিন পরেই ডিএলএফকে বেচা হয়েছিল ৫৮ কোটি টাকায়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সিবিআই একটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে। যাতে বলা হয়, হরিয়ানা সরকারের কর্মী ও অন্যান্য কয়েকজনের মদতে এই কেনাবেচা হয়েছিল। যার ফলে জমির মূল মালিককে প্রতারিত করা হয় এবং এটি একটি ফৌজদারি দুর্নীতি।
পরে এই কেলেঙ্কারিতে ইডি পৃথকভাবে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করে। সেখানে আর্থিক নয়ছয়ের কথাও যুক্ত করা হয়। রবার্ট বঢরার কাছে ইডি জানতে চায় ডিএলএফের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী। স্কাইলাইটের সঙ্গেই তাঁর আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে কিনা। এ পর্যন্ত ইডি এই মামলায় ২৮১.৪২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে।