
পঞ্চাশের বেশি সার্টিফিকেট, ১০টির বেশি পদক, ১০টির বেশি ট্রফি।
শেষ আপডেট: 19 April 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব ক্লাসে শীর্ষ স্থান অধিকার করেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী এখনও একটি ইন্টার্নশিপ জোটাতে পারেননি। আর তাতেই দুঃখে নেট দুনিয়ার বুক ভাসিয়ে দিয়েছেন তরুণী ওই ছাত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট এক জ্বালাময়ী প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সকলের সামনে। আর এই অবস্থায় সমাজে নতুন করে চিরাচরিত ফার্স্ট হওয়ার ইঁদুর দৌড়কে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে চাকরি করার দক্ষতার সঙ্গে। শিক্ষান্তে আসলে কার জয় অবশ্যম্ভাবী! কাজের দক্ষতা-পটুত্ব, নাকি শিক্ষাগত যোগ্যতা, নম্বর?
লিঙ্কডিন-এ দিল্লির হংসরাজ কলেজের ইংরেজির প্রথম বর্ষের ছাত্রী বিস্মা-র একটি মর্মান্তিক দুঃখের পোস্ট এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। তাঁর হতাশা ও গ্লানিবোধ থেকে তিনি জানিয়েছেন, কলেজে টপার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কপালে এখনও একটি ইন্টার্নশিপ জোটেনি। তাঁর এই জিজ্ঞাসু পোস্ট হাজার হাজার নেট নাগরিকদের মধ্যে দ্বিধা জড়িয়ে দিয়েছে যে, চাকরির কাজে পটুত্ব, নাকি মার্কশিটের নম্বর, কোনটা বেশি কাজে দেয় ক্লাসরুম শিক্ষার বাইরে?
ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী বিস্মা লিখেছেন, আমি টপার। তাতেও আমি একটি ইন্টার্নশিপ পাইনি। তিনি এখন বুঝতে পারছেন যে, বেশি বেশি মার্কস পাওয়ার থেকে দক্ষতার গুরুত্ব বেশি। ইংরেজি-হিন্দিতে তাঁর এই লেখা পড়ুয়াদের মধ্যে দ্বিধা জাগিয়ে তুলেছে যে, শিক্ষাগত সাফল্যের চূড়া ও বাস্তব দুনিয়ার চাপের মধ্যে প্রকৃত ফারাক কতটা!
বিস্মা লিখেছেন, আমার সব অধ্যাপক-শিক্ষক, আত্মীয়রা এতদিন বলে এসেছেন, নিজের পড়ায় মন দাও। পড়াই কাম আয়েগি, ইয়ে নহি! কিন্তু বাস্তবে, যারা সব উত্তর মুখে মুখে দিতে পারে কোম্পানিগুলো তাদের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে নেই। কোম্পানিগুলো তাদের চায়, যারা ওদের কাজটুকু করতে পারবে।
বিস্মার কথায়, আমি কাউকে সব বই পুড়িয়ে ফেলতে বলছি না। আমি সবাইকে বলতে চাই নিজেকে কাজের জন্য দক্ষ করে তুলতে আর তাতেই দেখবেন কত তাড়াতাড়ি চাকরির সুযোগ আসবে। বিস্মা তাঁর লেখার শেষে সেই বিস্ময়কর বোমাটি ফাটিয়েছেন, পঞ্চাশের বেশি সার্টিফিকেট, ১০টির বেশি পদক, ১০টির বেশি ট্রফি থাকতেও আমি ইন্টার্নশিপের ডাক পাইনি।