
তাঁরা একটি কেকের খালি বাক্স ও কিছু টিস্যু পেপার রাস্তার ধারে ফেলেছিলেন।
শেষ আপডেট: 16 December 2024 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৈনিতালে বেড়াতে গিয়েও পরিবেশ সচেতনতার পরিচয় দিলেন দুই বঙ্গতনয়া। পরিবেশ রক্ষা, পরিবেশ ভারসাম্য, পরিবেশ দূষণ নিয়ে সম্বৎসর গালভরা তর্ক-বিতর্ক, সেমিনার-সভা হলেও ভারতবাসী যে অসভ্য পৃথিবীতেই পড়ে রয়েছে তার নজির রয়েছে ভূরি ভূরি। অথচ, দেহাতি পর্বতবাসী কিন্তু অনেক বেশি সচেতন তাঁদের পরিবেশ রক্ষা নিয়ে। তেমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে দুই বঙ্গতনয়ার সাহসী পদক্ষেপে।
দুই মহিলাকে নৈনিতালের মতো সুন্দর-পরিচ্ছন্ন শহরের রাস্তায় নোংরা না ফেলতে অনুরোধ করেছিলেন এই দুই তরুণী। যেই না বলা, অমনি এই মারে কে সেই মারে করে তেড়ে আসেন হিন্দিভাষী দুই মহিলা। তাঁদের চিৎকারে আশপাশে লোকজন জমে যায়। এই মহিলা দোকানদারসহ ছুটে আসেন অন্য দোকান মালিকরাও। তাঁদের উপর হম্বিতম্বি করতে ছাড়েননি ওই দুই মহিলা। সেই চিৎকার-চেঁচামেচির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেছেন শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত নামে এক বঙ্গ-তরুণী।
আরেক বোনকে শিঞ্জিনী নৈনিতাল বেড়াতে গিয়েছিলেন এই ডিসেম্বরেই। স্থানীয় পর্যটন আকর্ষণস্থল লাভার্স পয়েন্টে গিয়ে তাঁরা যখন ঘুরছিলেন, তখনই দেখতে পান দুই মহিলা রাস্তার উপর খাবারের প্যাকেট ও টিস্যু পেপার ছুড়ে ফেলছেন। তখন তাঁরা এগিয়ে গিয়ে তাঁদের ওই ময়লা ডাস্টবিনে ফেলার অনুরোধ করলেই বিতণ্ডার সূত্রপাত।
এইচটিডটকমকে শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত বলেন, তাঁর বোন দুই মহিলার মোকাবিলা করেন প্রথমে। তাঁরা একটি কেকের খালি বাক্স ও কিছু টিস্যু পেপার রাস্তার ধারে ফেলেছিলেন। তখন তাঁদের বলা হয়, ওগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতে। শিঞ্জিনী জানান, একটি বাক্সের কেক ভাগ করে নিয়ে প্যাকেট ফেলে দেন তাঁরা। গত ১৪ ডিসেম্বর এই ঘটনা ঘটে। ওই মহিলাদের সঙ্গে এক ভদ্রলোকও ছিলেন। তিনি গাড়িতে বসেছিলেন।
View this post on Instagram
শিঞ্জিনীর ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাস্তায় প্যাকেট ফেলার পরেও তাঁরা হইচই জুড়ে দেন। গাড়িটিতে লখনউয়ের নম্বর প্লেট লাগানো ছিল বলে জানা গিয়েছে। দুই মহিলার মধ্যে বয়স্কজন কেকের প্যাকেটটিও ফেলে দেন। তাঁদের বলার পর ওই মহিলা চিৎকার করে জবাব দেন, এখানে কোনও ডাস্টবিন নেই। দিখাও কাঁহা হ্যায়। হ্যায় হি নেহি, এসব বলতে শুরু করেন।
শিঞ্জিনীর বোন তখন তাঁদের বলেন, পাশেই খাবারের দোকান আছে। সেখানে তো ডাস্টবিন আছে! এমনকী ওই এলাকার রেলিংয়েও লেখা আছে, ময়লা ডাস্টবিনে ফেলুন বলে। কিন্তু মহিলারা অনড়, কিছুতেই তা তুলে ময়লা ফেলার পাত্রে ফেলবেন না। চিৎকার, চেঁচামেচি শুনে পাশের দোকানদাররা চলে আসেন। তাঁরাও মহিলাদের চেপে ধরেন। কারণ, দোকানদার বলেন, দোকানের সামনে ময়লা পড়ে থাকতে দেখলে পুলিশ তাঁকেই জরিমানা করবে।
সেই সময় স্থানীয়দের রুখে দাঁড়াতে দেখে মহিলাদের গাড়ির ড্রাইভার ময়লাগুলো তুলে খাদে ফেলে দেন। তখন শুরু হয় আর একপ্রস্থ ঝগড়া। স্থানীয়রা ঘিরে দাঁড়িয়ে বলেন, ময়লা পাহাড়ে কেন ফেললেন! তা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে শুরু হয়ে যায় তুমুল বচসা। যার কিছুটা শিঞ্জিনী ভিডিওতে দেখিয়েছেন। মহিলারা তাঁদের বলেন, নিজের কাজ করো যাও।
এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই দুই মহিলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন নেটিজেনরা। কেউ লিখেছেন, যতই শিক্ষিত হোক না কেন, পুরনো বদঅভ্যাস যাবে কোথায়! একজন বলেন, যতদিন না প্রচুর জরিমানা করা হবে, ততদিন এই অসুখ সারবে না। কয়েকজনের মতে, নম্বর প্লেট ধরে খুঁজে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক সরকার।