
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 22 February 2025 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) জেলখানা (Jail) কয়েদিরাও এবার মোক্ষস্নান করলেন প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভের (Mahakumbh 2025) ত্রিবেণীর জলে। রাজ্যের কারাগার দফতর কয়েদির জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল। যাতে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলে বন্দি প্রায় ৯০ হাজার কয়েদিকে মহাকুম্ভের জলে স্নানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের ৭৫টি ছোট-বড় জেলখানা রয়েছে। তাতে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাঁদের কেউ বিচারাধীন তো কেউ সাজাপ্রাপ্ত। তাঁদের পুণ্যার্জনের জন্য লখনউ, অযোধ্যা, আলিগড় সহ বিভিন্ন শহরে ত্রিবেণী সঙ্গম থেকে জল তুলে নিয়ে আসেন কারা দফতরের কর্মীরা। সেই জলই ট্যাঙ্কের জলে মিশিয়ে তাঁদের পুণ্যার্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানা গিয়েছে, সঙ্গম ত্রিবেণীর জল ছোট ছোট ট্যাঙ্কের জলে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই বন্দিদের স্নানের ব্যবস্থা করা হয়। এই কাজে পুরোহিতও ডেকে আনা হয়েছে, যাঁরা প্রায়শ্চিত্ত করতে চেয়েছেন কিংবা পিতৃপুরুষের প্রতি জলার্ঘ্য নিবেদন করতে চেয়েছেন, তাঁদের জন্য। উত্তরপ্রদেশের কারামন্ত্রী দারা সিং চৌহান লখনউ জেলে এই পুণ্যস্নান অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। তিনি বলেন, প্রায় ৯০ হাজার কয়েদিকে পুণ্যস্নান করানো হয়েছে। পুরো খরচাই দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার।
মন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশ হল প্রথম রাজ্য, যেখানে কারা দফতর এই ব্যবস্থা করল। যাঁরা স্বাধীন তাঁরা যে কোনও সময়েই মহাকুম্ভে যেতে পারেন। কিন্তু যাঁরা এই কারাগারে বন্দি হয়ে রয়েছেন, অথচ তাঁদের ভিতরে ভক্তি-বিশ্বাস রয়েছে, তাঁরা তো আর এই চার দেওয়ালের বাইরে যেতে পারবেন না। তাই তলা থেকে উপরের সারি অফিসারদের সৌজন্য কুম্ভ থেকে জল এনে পুণ্যস্নানের ব্যবস্থা করেছি আমরা।
তিনি আরও জানান, কয়েদিদের অনেকেই এই ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁরাই বলেছিলেন, আমরা তো আর কুম্ভস্নান করার জন্য মুক্তি পাব না। এখানেই যেন পবিত্র জল এনে মাথায় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাই তাঁদের অনুরোধ রক্ষা করতেই এই মোক্ষস্নানের আয়োজন করা হয়েছিল।
আলিগড়ে দেখা গিয়েছে, বন্দিরা মটকি বা কলসি করে আনা কুম্ভের জল ছোট ট্যাঙ্কে ভরে দিচ্ছেন। সেখান থেকে নলবাহিত কলে স্নান করছেন অন্য বন্দিরা। আলিগড় জেলের সুপার ব্রিজেন্দ্র সিং যাদব বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশে এই স্নানপর্বের আয়োজন করা হয়েছে। হিন্দু ছাড়া অন্য ধর্মের বন্দিরাও এই কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মুসলিমরাও উৎসাহের সঙ্গে জল আনা-ভরার কাজ করেছেন। খুশি খুশি এই স্নানপর্ব মিটেছে। অযোধ্যার জেল সুপার উদয়প্রতাপ মিশ্র বলেন, তাঁর জেলের প্রায় ৭৫৭ জন পবিত্রস্নান করেছেন।