
শেষ আপডেট: 4 November 2023 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতে রাজস্থান বিধানসভার জন্য দলের প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। মরুরাজ্যেও দল পড়শি মধ্যপ্রদেশে রাস্তায় হাঁটবে, অর্থাৎ সাংসদদের প্রার্থী করবে, এমন জল্পনা ছিলই। প্রথম তালিকায় ৪১ প্রার্থীর মধ্যে সাতজন এমপির নাম আছে। তাঁদের ছয়জন লোকসভার সাংসদ। এছাড়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোরের নাম রয়েছে তালিকায়। কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতকে প্রার্থী করা হবে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলতের বিরুদ্ধে, আগেই আভাস দিয়েছে দল।
মধ্যপ্রদেশে দলের প্রথম দুই তালিকায় সাত সাংসদ ও তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম রয়েছে। বিজেপি সোমবার ছত্তীসগড়েরও প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানেও প্রার্থী তালিকায় কয়েকজন হেভিওয়েট সাংসদের নাম আছে।
রাজস্থানের তালিকা প্রকাশের পর সবচেয়ে আলোচনা হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াকে নিয়ে। তাঁর নাম নেই প্রথম তালিকায়। তাঁকে টিকিট দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েই সংশয় আছে দলে।
বাজপেয়ী, আদবানীদের সময়ে রাজস্থানে বসে দিল্লির নেতৃত্বকে নিজের ইচ্ছামতো চালিত করা বসুন্ধরা শত চেষ্টা করেও নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের ঘনিষ্ঠ হতে পারেননি। দলে কোণঠাসা এই নেত্রী নানাভাবে চেষ্টা করছেন বিধানসভা ভোটে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী মুখ করা হোক। কিন্তু সত্তোরোর্ধ্ব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না মোদী-শাহ-নাড্ডা জুটি, এমনটাই মরুরাজ্যের পদ্ম শিবিরের খবর। ফলে রাজস্থানের রাজনীতিতে রানিসাহেবা হিসাবে খ্যাত গোয়ালিয়র রাজ পরিবারের সদস্য বসুন্ধরার রাজনৈতিক ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। তিনি অবশ্য দমবার প্রাত্রী নন। গত সপ্তাহে একাই রাজ্যের নানা জায়গায় সভা করে সোশ্যাল মিডিয়া ছবি দিয়ে দাবি করেছেন নিজের জনপ্রিয়তা। বলেছেন, রাজস্থানের মানুষ ফের আমাকে সেবা করার সুযোগ দিতে চান, জনসভার ভিড় সেকথাই প্রমাণ করে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে রাজসমন্দ কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ রাজকন্যা দিয়া কুমারীকে নিয়ে। রাজ্যে মোদী-শাহ-নাড্ডার জনসভার আয়োজকদের মধ্যে নজর কাড়া তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে বিজেপির এই সাংসদের। সোমবার তাঁকে নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে উঠেছে প্রার্থী তালিকায় নাম থাকায়। বিধানসভা নির্বাচনে জয়পুরের বিদ্যানগর আসন থেকে লড়াই করবেন তিনি।
দিয়াও এক রাজ পরিবারের সদস্য। জয়পুরের মহারাজা দ্বিতীয় মানসিংহের নাতনি ৫২ বছর বয়সি দিয়া আগে বিধায়ক ছিলেন। ২০১৯-এ লোকসভায় লড়াই করে জিতে যান। মোদী-শাহের ইচ্ছায় মরুরাজ্যে পদ্ম শিবিরে তিনিই বসুন্ধরার জায়গা নিতে পারেন, এমনটাই জল্পনা দলে।
রাজস্থানে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলেও বিজেপির মতো তারাও কাউকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরছে না। অলিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে বিবেচনায় আছেন প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট। বছর ছেচোল্লিশের শচীনের বিপরীতে দিয়ার নাম ভাসিয়ে রাখার কৌশল নিয়ে এগচ্ছে বিজেপি, এমনটাও মনে করছে দলের একাংশ।