সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ১৪৫ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পদক জিতলেন দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সোনিকা যাদব। অন্ধ্রপ্রদেশে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া পুলিশ ওয়েটলিফটিং প্রতিযোগিতায় ঘটল নজিরবিহীন কীর্তি।

সোনিকা যাদব
শেষ আপডেট: 27 October 2025 22:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে অসম্ভবও সম্ভব - এই প্রবাদকেই সত্যি করলেন দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল (Delhi Police Constable) সোনিকা যাদব (Sonika Yadav)। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তিনি অংশ নিলেন অন্ধ্রপ্রদেশে অনুষ্ঠিত ‘অল ইন্ডিয়া পুলিশ ওয়েটলিফটিং (Weightlifting) ক্লাস্টার ২০২৫–২৬’-এ, আর সবাইকে অবাক করে তুললেন ১৪৫ কিলোগ্রাম ওজন।
যখন সোনিকা মঞ্চে ওঠেন, কেউই কল্পনাও করতে পারেননি যে ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। অধিকাংশ দর্শক ভেবেছিলেন হয়তো তিনি ন্যূনতম ওজনও তুলতে পারবেন না। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সোনিকা ১৪৫ কেজি ওজন তোলেন! তখন গোটা হলরুমে নেমে আসে অবিশ্বাসের নিস্তব্ধতা, তার পরই আওয়াজ শোনা যায় করতালির।
মে মাসে মা হতে চলেছেন (Pregnant) জানতে পারার পর তাঁর স্বামী অঙ্কুর বানার ধারণা ছিল, সোনিকা হয়তো আর জিমে যাবেন না। কিন্তু সোনিকার মনোবল ছিল অন্যরকম। তিনি স্থির করেন, কোনওভাবেই থামবেন না। নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, প্রতিটি ধাপে সাবধানে ট্রেনিং চালিয়ে যান।
ফলাফল, প্রতিযোগিতায় স্কোয়াটে ১২৫ কেজি, বেঞ্চ প্রেসে ৮০ কেজি এবং ডেডলিফটে ১৪৫ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন তিনি।
সোনিকা জানান, গর্ভাবস্থায়ও নিরাপদে ওয়েটলিফটিং করা সম্ভব কি না, তা জানতে তিনি অনলাইনে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। তখনই জানতে পারেন ব্রিটিশ ক্রীড়াবিদ লুসি মার্টিনস-এর কথা, যিনি গর্ভাবস্থায়ও একইভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সোনিকা ইনস্টাগ্রামে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, পরামর্শও নেন।
প্রথমে কেউ জানতেও পারেননি যে সোনিকা গর্ভবতী। তিনি ঢিলেঢালা পোশাক পরেছিলেন। বেঞ্চ প্রেসের পর যখন তাঁর স্বামী হাত ধরে তুললেন, তখনও কেউ সন্দেহ করেননি। কিন্তু সত্যিটা জানা যেতেই গোটা স্টেডিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে। অন্যান্য দলের মহিলা পুলিশকর্মীরা এগিয়ে এসে তাঁকে অভিনন্দন জানান, ছবি তোলেন পাশে দাঁড়িয়ে।
২০১৪ ব্যাচের কনস্টেবল সোনিকা বর্তমানে কর্মরত আছেন দিল্লি পুলিশের কমিউনিটি পুলিশিং সেলে। এর আগে তিনি মজনু কা টিলা অঞ্চলে বিট অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
২০২২ সালে তাঁকে সম্মানিত করেন দিল্লি পুলিশ কমিশনার, আর আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি স্বীকৃতি দেন তাঁর কৃতিত্বকে।
সোনিকা জানিয়েছেন, খেলার জগতে তাঁর শুরু হয়েছিল কাবাডি দিয়ে। কিন্তু প্রকৃত শক্তি খুঁজে পান যখন জিমে প্রথম ডাম্বেল হাতে নেন। সেই থেকেই শুরু তাঁর ওয়েটলিফটিংয়ের যাত্রা, যা আজ অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে অসংখ্য মহিলার কাছে।