
বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি বুধবার।
শেষ আপডেট: 26 February 2025 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬ বছর আগে ঠিক এইদিনে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতেই দুরমুশ করেছিল ভারত। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের দিন। যার কোড নেম ছিল, অপারেশন বন্দর। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুবাইয়ের মাঠে পাকিস্তানকে গোহারা করার পর গোটা দেশ যখন আনন্দে আত্মহারা, ঠিক সেই সময়েই এই দিনে পাকিস্তানের মার্কিন বোমারু বিমান এফ ১৬-কে ধরাশায়ী করেছিল ভারতীয় মিগ-২১। সেই সময়েই দেশে বীরের মর্যাদা আদায় করে নেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান।
পুলওয়ামায় পাকিস্তানের মদতে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছিল। পুলওয়ামায় চোরের মতো অতর্কিত হামলায় পাকিস্তানি জঙ্গিরা ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে হত্যা করে। তারই প্রতিহিংসায় পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জঙ্গি শিবিরগুলি ধ্বংস করে ভারতীয় বিমানবাহিনী। তাতে ভারতের কোনও সেনা হতাহত হয়নি। কিন্তু, পাকিস্তানের মাজা ভেঙে দিয়েছিল বিমানবাহিনী। তার পরদিনই পাকিস্তান বিমানবাহিনী মার্কিন এফ ১৬ বিমান আকাশে ওড়ায়। কিন্তু, ভারতের অত্যন্ত প্রাচীন, প্রায় বাতিল হয়ে যাওয়া মিগ-২১ তাকে ঘায়েল করে দেয়।
কিন্তু, পাকিস্তান এফ-১৬ প্রয়োগের বিষয়টি প্রথম দিকে একেবারে নস্যাৎ করে দিলেও পরে স্বীকার করতে বাধ্য হয়। এমনকী ভারতীয় এয়ারস্ট্রাইকে কতজন পাকিস্তানি জঙ্গি ও সেনার মৃত্যুর হয়েছিল, তা পুরোপুরি চেপে যায়। এখন তাও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান গোড়ায় তাদের কতজন সেনা মারা গিয়েছে তা গোপন করে গিয়েছিল। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) তদন্তে প্রকাশ ২০২৪ সালে পাকিস্তানে মোট ৪৪৪টি জঙ্গি হামলা হয়েছিল। যাতে ৬৮৫ জন পাক নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।
গতবছর ১১৬৬টি জঙ্গি হামলা ও জঙ্গি দমন অভিযান হয়েছে পাকিস্তানে। তার মধ্যে ৯০৯টি ছিল জঙ্গি হামলা। যাই হোক পাকিস্তানের ধারণাতেই ছিল না যে, পুলওয়ামা হামলার জবাবে ভারত বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের মতো মুখ ভাঙা উত্তর দেবে। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক বা অপারেশন বন্দরের দিনপঞ্জি।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়ের উপর সিআরপিএফের একটি জওয়ান কনভয়ের উপর জঙ্গি হামলা হয়। জয়েশ-ই-মহম্মদের এক আত্মঘাতী জঙ্গি তার বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে মুখোমুখি ধাক্কা মারে কনভয়ের ট্রাকে। যাতে ৪০ জন জওয়ান শহিদ হন।
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: পাকিস্তান এই ঘটনায় তাদের যোগ থাকার কথা অস্বীকার করলেও ভারত আন্তর্জাতিক দরবারে এই ঘটনায় ইসালামাবাদের জড়িত থাকার কথা ঘোষণা করে। এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই মারণ হামলার জবাবে পাকিস্তানকে মোস্ট ফেভারড নেশন তকমা প্রত্যাহার করে।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: ৪০ জন শহিদ জওয়ানের অন্ত্যেষ্টি হয় তাঁদের নিজ নিজ গ্রাম-শহরে।
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করলেন, পুলওয়ামার ঘটনার বদলা নেওয়ার চেষ্টা করলে ভারতকে শিক্ষা দেওয়া হবে।
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: আন্তর্জাতিক চাপে জয়েশের সদর দফতর দখল করে পাকিস্তান সরকার। পরদিনই কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরে ১০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠায় জঙ্গি হামলা রুখতে।
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: ভারতীয় বিমানবাহিনী জয়েশের সর্ববৃহৎ জঙ্গি তালিম শিবির পাকিস্তানের বালাকোটে অভিযান চালায়। অপারেশন বন্দর নামে ওই অভিযান হয় পুলওয়ামা হামলার ১২ দিনের মাথায়।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বিমানযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বন্দি করে। তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন, জঙ্গি দমনে তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই ভারতকে বিমান অভিযান চালাতে হয়েছে।
১ মার্চ, ২০১৯: বহু আলাপ-আলোচনার পর অভিনন্দন বর্তমানকে পাকিস্তান মুক্তি দেয়। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে নিজের দেশে ফিরে আসেন।