
শেষ আপডেট: 11 November 2023 22:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্র সেজে ঢুকে দেশের তথ্য পাচার করছিল? উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযোগ, ওই চারজনের সঙ্গে নাকি জঙ্গি সংগঠন আইসিসের নিবিড় যোগসূত্র আছে। এমনকী তারা ভারতে থেকে আইসিসের হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করছিল বলে দাবি।
উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা সূত্রে খবর, ওই চারজনের নাম রাকিব ইনাম, নাভেদ সিদ্দিকি, মহম্মদ নোমান ও মহম্মদ নাজিম। তাদের থেকে পেনড্রাইভ ও কিছু নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। জানা গেছে, ওই পেনড্রাইভে ইসলামিক স্টেট ও আলকায়দার নানা প্ররোচনামূলক ভিডিও আছে। ওই চারজনই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি হামলা চালানোর ছক কষেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিটেক এবং এমটেক করেছিল ২৯ বছরের ইমাম। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বিএসসি অনার্স করেছে ২৩ বছরের নাভেদ। বিএস অনার্স করেছে নোমান (২৭)। আর ৩৩ বছরের মহম্মদও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিল।
কিছুদিন আগেই পুণে ইসলামিক স্টেট মডিউলের সঙ্গে জড়িত রিজওয়ান শাহনাওয়াজকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই রিজওয়ান জেরায় জানিয়েছে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রই আইসিস দ্বারা প্রভাবিত। এমন অনেকেই আছে যারা গোপনে আইসিসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের প্ররোচনায় দেশবিরোধী, উস্কানিমূলক নানা কথা তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। তরুণদের মগজধোলাই করে জঙ্গিদলে নিয়ে আসাই আইসিসের উদ্দেশ্য। সে জন্য তারা ছাত্রদের কাজে লাগাচ্ছে বলে দাবি করে রিজওয়ান।
ধৃত জঙ্গির থেকে তথ্য পাওয়ার পরেই গোয়েন্দা অফিসাররা তল্লাশি শুরু করেন। আলিগড়ের ছাত্রদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও নজরদারি শুরু হয়। সেখান থেকেই ৬ জনের নাম উঠে আসে যারা আইসিসের সঙ্গে জড়িত বলে অনুমান করেন তদন্তকারীরা। ওই ৬ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করে জেরা করা হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (আইন-শৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার জানিয়েছেন, রাজ্যে জঙ্গি হামলা চালানোর ছক তৈরি করা হচ্ছিল। সেজন্য আইসিসের হ্যান্ডলারদের থেকে বিভিন্ন নির্দেশ আসছিল। সেই হ্যান্ডলাররা কোথা থেকে সেইসব সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছিল, তা অবশ্য স্পষ্ট করেনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
এটিএস সূত্রে খবর, গত ৬ নভেম্বর আর্সালান এবং তারিক নামে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। দু'দিন পরেই ওয়াজিহুদ্দিন নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জেরা করার সময়ই রাকিব, নাভেদ, নোমান এবং মহম্মদের নাম উঠে আসে। তারা কীভাবে কাজ করছিল তা জানার চেষ্টা হচ্ছে।