বিষক্রিয়ার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৭ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ধৃতদের মধ্যে চার জন মহিলা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 27 January 2026 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের (Assam) মাজুলি জেলায় অন্তত ৫০টি পরিযায়ী পাখির (Migratory Birds Death) রহস্যজনক মৃত্যু। সোমবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত কামারগাঁও এলাকা ও সংলগ্ন কৃষিজমিতে পাখিগুলির দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিক তদন্তে বিষক্রিয়ার (Poisoning Suspected) আশঙ্কা করছেন বন ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণপাট কুমার গাঁও, সুমইমারি, কোমারগাঁও এবং রাওনাগাঁও এলাকায় কৃষিজমি থেকে পাখিগুলির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। অনুমান, খাদ্যের সন্ধানে মাঠে নামা পরিযায়ী পাখিদের লক্ষ্য করে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে কীটনাশক বা রাসায়নিক ব্যবহার করেছিল। সেই বিষক্রিয়ার (Poisoning) ফলেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ (Viral News)।
ঘটনার পর আটটি পাখিকে জীবিত (eight birds still alive) অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাদের বর্তমানে রতনপুর ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা।
বিষক্রিয়ার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৭ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ধৃতদের মধ্যে চার জন মহিলা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বন দফতরের (Forest Department News) এক আধিকারিক জানান, শীত পড়লেই প্রতি বছর পরিযায়ী পাখিরা খাদ্যের সন্ধানে মাজুলিতে আসে। কয়েক মাস এখানে থাকার পর তারা নিজেদের গন্তব্যে ফিরে যায়। এ বার নভেম্বরের আগেই পাখিগুলি এলাকায় আসতে শুরু করেছিল এবং জেলার নানা জায়গায় তাদের দেখা যাচ্ছিল। সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day 2026) কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকার সময় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে খবর আসে যে পাখিগুলিকে বিষ দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়েই বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিত পাখিদের উদ্ধার (Birds Death) করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
তদন্তে নেমে বিষ ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে বলে দাবি বন দফতরের (Forest Department)। সেই সূত্র ধরেই ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসম (Assam News) জুড়ে পরিবেশপ্রেমীদের (Nature Lover) মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিজমিতে বিষ ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করারও দাবি উঠেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, মাজুলির মতো পরিবেশ সংবেদনশীল অঞ্চলে এই ধরনের ঘটনা শুধু বন্যপ্রাণের ক্ষতিই নয়, গোটা বাস্তুতন্ত্রের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা এলাকা।